সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৪ ২১:১৩ পিএম
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৪ ২১:৫৪ পিএম
প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি সড়কের নির্মাণকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ উভয় পক্ষের দশজনের মতো আহত হয়েছে।
সোমবার (২৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুরগুরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, কাঞ্চনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমজান আলী, তার দুই ছেলে মো. আরমান ও মো. আরকান, নুরুন্নবী, আকিব, মো.মিনহাজ ও মাহমুদুল হক। তাদের মধ্যে রমজান আলী ও মাহমুদুল হককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবলী নোমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, সোমবার দুপুরের দিকে কাঞ্চনা ইউনিয়নের গুরগুরি এলাকায় একটি সড়কের নির্মাণকাজের উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুতি চলছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল মোতালেব সেখানে উপস্থিত হওয়ার আগে স্থানীয় চেয়ারম্যান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল আলম ও মোহাম্মদ ছালামসহ তাদের অনুসারীরা সেখানে উপস্থিত হন।
এ সময় নামফলকের সামনে থেকে আবদুল আলম চেয়ারম্যান রমজান আলীর এক অনুসারীকে সরে যেতে বললে উভয় পক্ষের লোকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান রমজান আলী অপর পক্ষের আলমের উদ্দেশে বলেন, ‘আলম এ দিন দিন নয়, আরও দিন আছে।’ এ কথা বলার পর উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের দশজন আহত হয়।
এ ব্যাপারে আহত মাহমুদুল হক বলেন, ‘সড়কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি মহোদয়ের গুরগুরি আসার খবরে লোকজন নিয়ে আমি অনুষ্ঠানস্থলে যাই। হঠাৎ চেয়ারম্যান রমজান আলীর ছেলে মো. আরমান, মো.আরকান ও ইউপি সদস্য মো. ফরহাদের নেতৃত্বে আমাকে প্রথমে বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করে। কিছুক্ষণের মধ্যে এমপি সাহেব এলে আঘাতের বিষয়টি তাকে দেখাতে গেলে পুনরায় তারা আমার ওপর হামলা করলে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি।’
জানতে চাইলে কাঞ্চনার চেয়ারম্যান রমজান আলী বলেন, ‘‘আলম ও মোহাম্মদ সালামের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ও আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে আমার দুই ছেলেসহ কয়েকজন আহত হয়। এর আগে আলম তার ফেসবুক আইডি থেকে ‘খেলা হবে’ লিখে আমাকে ইঙ্গিত করে একটি পোস্ট দেন।’’
আবদুল আলম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান নিজের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ঘটনা ঘটিয়ে আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছে। এ সন্ত্রাসী হামলায় আমার বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।’
এ ব্যাপারে মোহাম্মদ সালাম বলেন, ‘চেয়ারম্যান সড়ক উদ্বোধনের আগেই পরিকল্পনা করে আমার ভাইয়ের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবলী নোমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’