সিদ্ধিরগঞ্জের আতঙ্ক
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৪ ১৫:২০ পিএম
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৪ ১৬:৩৬ পিএম
রবিবার রাত সাড়ে ১২টায় নাসিক ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসা রোড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। প্রবা ফটো
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ভয়ংকর কিশোর গ্যাং 'টেনশন গ্রুপ' ও 'ডেভিল এক্সো' গ্রুপের লিডারসহ ১৭ সদস্যকে আটক করছে র্যাব-১১। গ্রুপ দুটির নেতৃত্ব দেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফির দুই ছেলে।
রবিবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টায় নাসিক ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসা রোড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
সোমবার সকালে আদমজীতে অবস্থিত র্যাব-১১ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরকারি বাহিনীটির উপপরিচালক মেজর সানরিয়া চৌধুরী।
আটকদের মধ্যে টেনশন গ্রপের সদস্য ছয়জন। ডেভিল এক্সো গ্রুপের ১১ জন। গ্রুপ দুটির নেতৃত্ব দেন দুই ভাই। তারা হলেন রাইসুল ইসলাম সীমন্ত ও মো. সারিব। তারা উভয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফির ছেলে।
টেনশন গ্রুপের নেতা ২২ বছর বয়সি রাইসুল ইসলাম সীমন্ত পিতা শফিকুল ইসলাম শফির সঙ্গে মিজমিজি পশ্চিমপাড়া এলাকায় থাকেন।
গ্রুপটির বাকি সদস্যরা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকার মো. তাজুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম, সানারপাড় এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মো হুমায়ুন হোসেন, মিজমিজি নাদা পাড়া এলাকার মো. আমিন উদ্দিনের ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন, লাঙ্গলবন্দ এলাকার খোকন শেখের ছেলে মো. রাব্বি, সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে প্রিতম রোবায়েতি ইসফাক। তাদের বয়স ২৪ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে।
ডেভিল এক্সো গ্রুপে সদস্য আটক করা হয়েছে ১১ জন। ১৯ বছর বয়সি সাব্বির গ্রুপটির নেতা। গ্রুপটির আটক বাকি সদস্যরা হলেন একই এলাকার মো. হারুনের ছেলে মো. আশিক, সিদ্ধিরগঞ্জের মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. নাঈম, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি মাদ্রাসা রোড এলাকার মো. আজাদ সিকদারের ছেলে মো. তুহিন হোসেন, মিজমিজি এলাকার খন্দকার মোহাম্মদের ছেলে রোসমান, মিজমিজি মাদ্রাসা রোড এলাকার মো. বাক্কির ছেলে মো. শাহাদৎ, মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকার মো. তাজুল ইসলামের ছেলে মো. সৌরভ, সানারপড় কান্দাপাড়া এলাকার মো. নুর নবীর ছেলে মো. মাহিন, মিজমিজি দক্ষিণ পাড়া এলাকার মো. ইমান আলীর ছেলে মো. তুষার, মিজমিজি আমজাদ মার্কেট এলাকার মো. নবীর হোসেনের ছেলে মো. সৌরভ, মিজমিজি দক্ষিণ পাড়া এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. আরিফ। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, গত বছরের ৩১ আগস্ট এবং ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর নাসিক এলাকায় মধ্যরাতে পরিচিত গ্যাং টেনশন গ্রুপের নেতা সীমান্ত ও তার বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এলাকায় উঠতি বয়সি ছাত্রদের টার্গেট করে মাদকদ্রব্য সেবনে প্ররোচিত করে তাদের গ্রুপে যোগদান করিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা রাস্তায় চলাচলরত জনগণের মালামাল ছিনতাই, বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, মালবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহনে নিয়মিতভাবে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করে থাকে। আসামিরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে শক্তির মহড়া বা দাপট প্রদর্শন করে জনমনে ভয়ভীতি বা ত্রাস সৃষ্টি করে। এলাকাবাসী তাদের হিংস্রতা, অত্যাচার ও নির্যাতনের ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।
র্যাব আরও জানায়, টেনশন গ্রুপের নেতা রাইসুল ইসলাম সীমান্ত এবং সদস্য মো. প্রিতম রোবায়েতি ইসফাক এবং ডেভিল এক্সো গ্রুপের সদস্য মো. আশিক এবং মো. নাঈমের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা, ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
তথ্যমতে, টেনশন গ্রুপ নেতা রাইসুল ইসলাম সীমান্ত ও ডেভিল এক্সো গ্রুপের নেতা সাব্বির স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফির ছেলে। গ্রুপ দুটির সদস্যরা এলাকাজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল। নানা সময় বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রসহকারে পাড়া-মহল্লায় মহড়ার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে নিজেদের আদিপত্য ধরে রাখতেন তারা।
স্থানীয়রা জানান আলোচিত এ দুই কিশোর গ্যাং নাসকি ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দাদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। তাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন অসংখ্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। বাদ যায়নি ওয়ার্ড কাউন্সিলরও। কাউন্সিলর কার্যালয়ে ভাঙচুর, এলাকাবাসীর বাড়িঘরে হামলাসহ এ ধরনের অসংখ্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।