পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১৮:০২ পিএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ২০:০২ পিএম
বীর নিবাসের সামনে দেয়াল তোলা হয়েছে। ছবি : প্রবা
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বীর নিবাসে বসবাস করা এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারটির দাবি, স্থানীয় বিএনপি নেতা আকতার হোসেন ও তার জামাতা আরিফ হোসেন বাড়ির চারপাশে রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা আকতার হোসেন ও তার জামাতা আরিফ হোসেন বলেন, আমরা তাদের অবরুদ্ধ করিনি, বরং ওই পরিবারটি আমাদের হুমকি দিয়ে আসছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বীর নিবাস পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা আবু জোহার বড় ছেলে সালাউদ্দিন বাবু তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তা নেই। সামনেই তোলা হয়েছে দেয়াল। সেখানে ছোট্ট একটি দরজা আছে। এর সামনেই রাখা হয়েছে বালুর স্তূপ। এতে বীর নিবাস থেকে স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারটির অভিযোগ, দেয়ালের ছোট্ট দরজা দিয়ে বের হলেই বিএনপি নেতারা তাদের বাধা দেয়। বাড়ির সামনে রাখা বালুর স্তূপের উচ্চতা বেশি হওয়ায় গৃহস্থালি কাজেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
বীর নিবাসে বসবাসরত সালাউদ্দিন বাবু জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমরা পাঁচ শতক জমির ওপর এ বাড়িতে বসবাস করেছি। আমি নিজেও মুজিব আদর্শের সৈনিক। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের ওপর ষড়যন্ত্র করে আসছে ইউনিয়ন বিএনপি নেতারা। চলতি বছরে আমার বাবার নামে বীর নিবাস হওয়ার পর থেকে স্বাধীনতাবিরোধী কয়েকটি পরিবার আমাকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে।
তিনি বলেন, আমার বাবা এ দেশের জন্য যুদ্ধ করে গেছেন। সরকার আমার বাবাকে বীর নিবাস করে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, তাতে আমাদের মনে হয় বীর নিবাসে থাকা হবে না। কারণ বীর নিবাস থেকে বের হতে পারছি না। বাড়ির সামনে বালুর স্তূপ। বারবার অঙ্গীকার সত্ত্বেও তারা চলাচলের রাস্তা দিচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানায়, ২০০৩ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা আবু জোহা কালিয়াগঞ্জ বাজারসংলগ্ন ওই বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গা দিয়ে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেন। ২০১৮ সালে আবু জোহা মারা যায়। মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে সালাউদ্দিন বাবু সেই বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন।
বিষয়টির সমাধান চেয়ে চলতি বছরের মার্চে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। গত ১০ মার্চ দুই পক্ষকে উপজেলা কার্যালয়ে নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে আকতার হোসেন ও তার পরিবার বীর নিবাসের সামনে রাস্তার জন্য জায়গা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আর জায়গা ছেড়ে দেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফ হোসেন জানান, চার পাঁচ বছর পূর্বে আমার শ্বশুর আমাকে ১৬ শতক জমি লিখে দিয়েছিলেন। আমাদের জমিতে আমরা দেয়াল তুলেছি। গলির মতো রাস্তা করে দিতে চেয়েছিলাম; কিন্তু তারা উল্টো আমাদেরই হুমকি দেয়। সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জায়গা দখল করে রাস্তা বানাতে চায়।
বিএনপি নেতা আকতার হোসেন জানান, সালাউদ্দিন বাবু আমাদের আত্মীয়। বীর নিবাস থেকে তাদের চলাফেরায় অসুবিধার কথা আমাদের না জানিয়ে আমাদেরই হুমকি দিচ্ছে। এ কারণে এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
কাজলদিঘি কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন জানান, মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটির চলাচলের রাস্তা দ্রুত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা ছাড়া কোনো নাগরিককে স্বাধীনভাবে চলাফেরায় বাধা দেওয়া বেআইনি। বীর নিবাসের সদস্যদের চলাচলের রাস্তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও আকতার হোসেনের পরিবার জেদাজেদি পর্যায়ে গেছে। কোনো পক্ষই ছাড় দিতে চাচ্ছে না। দুই পক্ষ এগিয়ে এলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেব।