কুষ্টিয়া সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১৫:২০ পিএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১৭:২২ পিএম
ফুপু রোকসানাকে হত্যায় জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার নওরোজ কবির নিশাত। ছবি : সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় স্কুলশিক্ষক রোকশানা খানম রুনাকে হত্যার অভিযোগে তার ভাতিজা নওরোজ কবির নিশাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খাঁন মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং ডি ব্লকের ২৮৫ নম্বর বাসা থেকে রোকশানা খানম রুনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ইংরেজি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন। তার স্বামী খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান যশোরের চৌগাছা এলজিইডির কমিউনিটি অরগানাইজার পদে চাকরি করেন। সপ্তাহ শেষে তিনি কুষ্টিয়ায় আসতেন। ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে হাউজিং ডি ব্লকে নিজের নামে ছয়তলা ওই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন রোকশানা খানম।
ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, নওরোজ কবির নিশাত মাদকাসক্ত ও জুয়ায় আসক্ত। কিছুদিন আগে ভাতিজা নিশাতকে এক লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন রোকশানা। নিশাত জুয়া খেলায় হেরে মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে দেয়। এ নিয়ে রবিবার রাতে রোকশানা নিশাতকে বকাবকি করে।
একপর্যায়ে উত্তেজিত নিশাত রান্না ঘর থেকে শীল নিয়ে এসে রোকশানার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। তখন ঘটনাকে ভিন্ন দিকে মোড় দেবার জন্য রক্তাক্ত রোকশানা খানমকে বিছানায় শুইয়ে এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে দেয় নিশাত। পরে নিশাত বাসার বারান্দার ওপরের ডিজাইন করা গোল ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে যায়। আর হত্যায় ব্যবহৃত শীল পরিত্যক্ত লিফট ঘরে ফেলে দেয়।
ওসি জানান, রোকশানা খানম নিঃসন্তান হওয়ায় তার ছোট ভাইয়ে ছেলে নিশাতকে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে নিজের কাছে রেখে সন্তানের মত লালনপালন করেন। নিশাতের এই উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন নিয়ে বিরক্ত ছিলেন রোকশানা খানম। এ নিয়ে প্রায়ই তিনি ভাতিজা নিশাতকে বকাঝকা করতেন।
দেলোয়ার হোসেন আরও জানান, স্কুলশিক্ষক রোকশানা খানম হত্যাকাণ্ডের পর জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করেন পুলিশ সুপার খাইরুল আলম। বিশেষ ট্রান্সপোর্ট টিমটি হত্যায় জড়িত আসামি শনাক্ত ও আটকের জন্য বিশেষভাবে তদন্ত শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে নিশাতকে শনাক্ত করে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে নিশাত হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য মতে হত্যায় ব্যবহৃত শীলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ইংরেজি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক রোকশানা খানমের মরদেহ উদ্ধারের পর নিশাত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। নিশাত উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার ফুপু রোকশানা খানমকে ডাকতে যান। অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
রুমে প্রবেশের পর বিছানার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় রোকসানার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। রোকসানার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। ওই ঘরের আসবাব, কাপড়-চোপড়, ড্রয়ার সবকিছু ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় পড়ে ছিল।