ধর্ষণের শিকার নারীর সংগ্রাম
রংপুর অফিস
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৪ ২২:২৭ পিএম
আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪ ২৩:০২ পিএম
প্রতীকী ছবি
‘আমার সন্তান পিতৃত্বের পরিচয় পেয়েছে। তার বয়স এখন ১৫ এবং সে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। আমার উপস্থিতিতে আদালত ছেলের নামে অর্ধেক সম্পত্তি লিখে দেওয়ার শর্তে আসামিকে জামিন দিয়েছে। আমার দীর্ঘদিনের সংগ্রাম সফল হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) প্রতিদিনের বাংলাদেশের কাছে এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন রংপুরের মিঠাপুকুরে এক নারী। এর আগে গত বুধবার দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে উচ্চ আদালতের আদেশ পান তিনি।
হাই কোর্টের বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি একেএম জহুরুল হকের বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি আইনজীবী রফিক হাসনাইন ও আরডিআরএস কর্মকর্তা শমসে আরা বিলকিস প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রায়ে আগামী ২১ মে এই আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিষয়ে আসামির আইনজীবীকে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। আদেশ ঘোষণার সময় আসামি আসাদুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী রফিক হাসনাইন জানান, ২০০৭ সালের দিকে রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান আসাদুল। এক পর্যায়ে ওই কিশোরী গর্ভবতী হলে আসাদুল তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি গ্রাম্য সালিসেও সে সময় সমাধান হয়নি। আরডিআরএসের কর্মকর্তা শমসে আরা বিলকিসের সহযোগিতায় ওই বছরের ৩ জুন কিশোরী আসাদুল ও তার বাবাকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন।
সাক্ষ্য প্রমাণ ও শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল আসাদুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক জাবিদ হোসাইন।
এরমধ্যে ওই কিশোরী ছেলে সন্তান জন্ম দেন। ছেলেটির ভরণপোষণ ও তার বাবার পরিচয় পেতে তিনি আইনি লড়াই করে যান। শেষ পর্যন্ত ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয়েছে ছেলেটির বাবা আসাদুল ইসলাম।
আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, পৈত্রিক সূত্রে আসাদুল যে সম্পত্তি পেয়েছেন তার অর্ধেক লিখে দেওয়া শর্তে উচ্চ আদালত তাকে জামিন দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজনকে আদালতের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।