× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজশাহী আ. লীগের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

রাজশাহী অফিস

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৪ ২২:২১ পিএম

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪ ২২:২৩ পিএম

রাজশাহীর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। প্রবা ফটো

রাজশাহীর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। প্রবা ফটো

রাজশাহীতে আবারও সামনে এলো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দ্বিধাবিভক্তির চিত্র। এই বিভক্তির একটি পক্ষে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান বাদশাসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দুই সভাপতি এবং তাদের অনুসারী। অপর পক্ষে রয়েছে রাজশাহী-১ আসনের এমপি ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৫ আসনের এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী-৪ আসনের এমপি আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৬ আসনের এমপি শাহরিয়ার আলমসহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আয়েন উদ্দিনসহ তাদের অনুসারী। এই দুই পক্ষের মধ্যকার বিরোধ ঈদের পরে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুই পক্ষের দেওয়া বক্তব্যে এমন আভাসই পাওয়া যাচ্ছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সংসদ সদস্য ফারুক চৌধুরী ও দারাসহ জেলা-মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, আপনারা যদি সংযত না হন, যদি সঠিক পথে রাজনীতি না করেন, নিজের এলাকার বাইরে যদি মাথা ঘামান, তাহলে আমাদেরকে বাধ্য হতে হবে। রাজনৈতিকভাবে আপনাদেরকে আমরা মোকাবিলা করতে চাই। 

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) বিকালে রাজশাহী নগরীর জয় বাংলা চত্বরে রাজশাহী মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

লিটনের এই হুঁশিয়ারির আগে গত ৯ মার্চ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল ওয়াদুদ দারাকে গণসংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে রাজশাহী মহানগর এবং জেলা আওয়ামী লীগকে মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওমার ফারুক চৌধুরী। আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানকে প্রথম ট্রায়াল উল্লেখ করে মেয়র লিটনকে উদ্দেশ করে ফারুক চৌধুরী বলেন, কারও একক নেতৃত্বের এলাকা এই রাজশাহী নয়। সুতরাং আমরা এটি মানব না। এর পরে আমরা আরও অনেক কিছু দেখাব। রাজশাহী নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় বড় মসজিদের সামনের সড়কে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দিয়েছিলেন, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক এমপি আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। মোবাইলে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম।

ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফারুক চৌধুরী, আব্দুল ওয়াদুদ দারাসহ রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে নিয়ে পরোক্ষভাবে নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার বিকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লিটন তাদের সেই কথার উত্তর দেন। তিনি বলেন, ঈদের পর তাদের কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়া হবে।

ফারুক চৌধুরীকে ছাত্রদল নেতা ও ফ্রিডম পার্টির সদস্য উল্লেখ করে মেয়র লিটন বলেন, আরে, উনি তো নিজেই ছাত্রদল-ফ্রিডম পার্টি করে এসেছেন। উনি আবার আওয়ামী লীগকে রাহুমুক্ত করবেন কী করে! আমরা জন্মগতভাবে আওয়ামী লীগ করি। আমার পিতা আওয়ামী লীগ করেছেন। জাতির পিতার সঙ্গে আওয়ামী লীগ করেছেন। আমাকে যদি উৎখাত করা এতই সোজা হতো, এতগুলো মানুষ কি আমাদের ডাকে আসতো? আমরা মনে করি বড় মসজিদ প্রাঙ্গণকে কলুষিত করা হয়েছে। সেখানে মিলাদ-মাহফিল দিয়ে পবিত্র করা দরকার। আমরা সেটা করতে চাই। ঈদের পরে সেটাই করা হবে। 

ফারুক চৌধুরী ও আব্দুল ওয়াদুদ দারাকে সতর্ক করে লিটন আরও বলেন, আমরা কারও দয়ায় এই জায়গায় আসিনি। খেটেখুটে জনগণের ভালোবাসা নিয়ে এসেছি। এত ভোট বাংলাদেশের মধ্যে কেউ পায়নি, যে ভোট আমাকে রাজশাহীবাসী দিয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ তাদের কাছে। সেই রাজশাহীবাসী আমার সঙ্গে আছে। আমাকে ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নাই।  

তিনি বলেন, কিছু রাজাকার, কিছু বিএনপি, কিছু ভুঁইফোড় তথাকথিত নেতা; জনগণের ভোটে তারা আগিয়ে আছে; আমরা সেটা বলব না। তারা ওখানে বড় বড় কথা বলে আমাকে ও আমাদেরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন! অনীল দাদার (জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি) মতো মানুষকে অশ্রাব্য ভাষায় গলাগালি করেন! এটি অপচর্চা, অপসংস্কৃতি চলছে। আমাকে রাজশাহী থেকে বহিষ্কার করে কোনো লাভ সেই, শেখ হাসিনা আমাকে বাংলাদেশ দিয়ে গেছেন, প্রেসিডিয়াম মেম্বার করে। ১৭ জন প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে আমি একজন। গা জ্বললে তো লাভ নেই। আপনারা যে ভাষায় কথা বলছেন, বিএনপি-জামায়াত ওই ভাষায় কথা বলে। আওয়ামী লীগকে কটাক্ষ করে। আপনাদের গায়ে গন্ধ আছে বিএনপি-জামায়াতের। সেই কারণেই আপনারা কটাক্ষ করে কথা বলেন। 

গত ৯ মার্চের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লোকজনকে ভাড়া করে আনা হয়েছে উল্লেখ করে আওয়াম লীগে প্রেসিডিয়াম সদস্য লিটন বলেন, সাহেব বাজার বড় মসজিদ প্রাঙ্গনকে কুলশিত করা হলো। সংবর্ধনার নামে আমরা নতুন ধরণের একটা অনুষ্ঠান দেখালাম, যেখানে অন্যকে গালাগাল করে দলকে ছোট করার অপপ্রয়াস করা হলো। আমরা শুনেছিলাম একজন সংবর্ধিত হবেন। দেখলাম সেই মঞ্চে যার যার গায়ে ছাত্রদলের গন্ধ, যার গায়ে ফ্রিডম পার্টির গন্ধ, যার পরিবারের মধ্যে আজও স্বাধীনতার বিপক্ষের মানুষের চলাচল আছে। যার নিজের এলাকায় তাকে গড ফাদার বলা হয়। কিসের গড ফাদার? আমি সেটা বলতে চাই না। 

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনীল কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল, রাজশাহী-২ আসনের কাঁচি প্রতীকের এমপি শফিকুর রহমান বাদশা, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আসাদুজ্জামান আসাদ। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন ও জেলা আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাবলুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হোসেন, রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক এমপি ডাক্তার মনসুর রহমান, বিএমডিএর চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আখতার জাহান, রাজশাহী-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রাহেনুল হক রায়হান, বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাছ আলী।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা