চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৪ ২০:১১ পিএম
আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪ ২০:২৫ পিএম
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলেনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। প্রবা ফটো
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এম এ মোতালেবের সঙ্গে জামায়াতের চুক্তি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন একই আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। স্বতন্ত্র ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা ছাড়াও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং বিএমএ নেতা ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমানকে নিয়ে বিষোদগার করেন তিনি।
নদভী বলেন, ‘মিনহাজ বদহজমির বড়ি। ওনি কোথাও বেশি দিন টিকে থাকতে পারেন না। ইউএসটিসি, বিজিসি ট্রাস্ট ছিল, কিন্তু এখন নাই। এ ধরনের বদহজমি মানুষ নিয়ে তো আমি টিকে থাকতে পারব না। সেজন্য আমার এখান থেকে চলে গেছে। এখন জামায়াতের লোকজন দিয়ে সাতকানিয়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে।’
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলেন তিনি এসব কথা বলেন।
নদভী গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেবের কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত এই প্রার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে নদভী বলেন, ‘২০১৪ সালে মিনহাজ আমার সঙ্গে ছিল। তখন টিআর কাবিখা নিয়ে অনিয়ম করতে চেয়েছিল। আমি সুযোগ দিইনি, তাই এখন আমার বিরুদ্ধে বলছে। আমি দুই টার্ম এমপি থাকাকালীন সাতকানিয়া লোহাগাড়ার জন্য অনেক কিছু করেছি। আমি মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও অনুদানের মাধ্যমে নানা স্থাপনা করেছি।’
‘টিআর কাবিখা থেকে আমার দুর্নীতি করতে হবে? যেখানে ইন্টারন্যাশনাল স্কলার হিসেবে আমি হাজার হাজার ডলার আয় করি, সেখানে টিআর কাবিখা কি কোনো বিষয়? এই টিআর কাবিখা, হাসপাতাল করার নামে নাকি আমি টাকা আত্মসাৎ করেছি। এসবের যদি কোনো প্রমাণ দিতে পারে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব,’ যোগ করেন তিনি।
গেল সংসদ নির্বাচনের পর তার নির্বাচনী এলাকায় ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে দাবি করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার সময়ে সাতকানিয়া শান্তির জনপদ ছিল। কিন্তু নতুন এমপি এম এ মোতালেব আসার পর সেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। নির্বাচনপরবর্তী এই আড়াই মাসে ছয়টি মার্ডার হয়েছে। এমনকি নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন এলাকায় যেতে পারছে না।’
তিনি দাবি করেন, ‘নির্বাচনের আগে ২১ ডিসেম্বর আমার ও আমার স্ত্রীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। নির্বাচনের পর আমার লোকজনের ওপর হামলা করেছে। কিন্তু সেই হামলার মামলায় পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করছে না। বর্তমান এমপির লোকজনের অত্যাচারে আমার লোকজন বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। অনেকেই আমার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আমি তাদের তিন বেলা খাওয়াচ্ছি। যাতে লোকজন তাদের ঘরবাড়িতে যেতে পারে, থাকতে পারে আমি সেই সমাধান চাচ্ছি।’
নদভী আরও বলেন, ‘সাতকানিয়ায় জামায়াতের সঙ্গে বর্তমান এমপির চুক্তি হয়েছে। ড. এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীসহ যেসব আলেমকে আমার দায়িত্বকালীন সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আসতে দিইনি, এখন তাদের আনা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, জামায়াতের নেতাকর্মীরা এখন মাঠে। এমনকি আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান করারও পাঁয়তারা হচ্ছে।’
তাই আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
‘বহুত দিন হাইয়্যে, আর ন হাইয়্যে’ নির্বাচনের সময় প্রতিপক্ষের স্লোগান নিয়ে নদভী বলেন, ‘এই স্লোগান মিনহাজ দেশ দুনিয়ায় ভাইরাল করে দিয়েছেন। যখন মিনহাজ আমার সঙ্গে ছিলেন তখন তিনিও খেয়েছেন। তিনি মানুষের জায়গা দখল করতে চেয়েছিলেন, আমি দেই নাই। আমার একটা অনুষ্ঠানে তিনি (মিনহাজ) সন্ত্রাসী জড়ো করেছিলেন। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে আসছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার সময়ে সাতকানিয়া আদর্শ মহিলা কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি করেছিলাম আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আবছার চৌধুরীকে। এখন তাকে সরিয়ে মিনহাজকে সভাপতি করা হয়েছে। মিনহাজ সভাপতি হওয়ার পর ওই কলেজে জামায়াতের সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর ছবি দিয়ে ব্যানার টাঙানো হয়েছে।’
নদভীর এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দশ বছরে সাতকানিয়াকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে সাবেক এমপি নদভী। এখন যখন আমাদের নতুন এমপি নির্বাচিত হয়ে নানা কর্মকাণ্ড করছেন, উনার হয়তো সহ্য হচ্ছে না। তিনি যেসব মনগড়া অভিযোগ তুলেছেন, তা সত্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কারও কোনো জমি দখল করিনি। তিনি (নদভী) কেরানিহাট এলাকার মাদ্রাসার মাঠে মার্কেট করতে চেয়েছিল, আমি বাধা দিয়েছি। আর যেই মাদ্রাসার আমি সভাপতি হয়েছি, সেইটা মহিলা মাদ্রাসা। সেখানে যে জামায়াতের আনাগোনা বলা হচ্ছে, সেটা ভুয়া। এইটা মহিলা মাদ্রাসা। সেখানে বাইরের কোনো পুরুষের আসা-যাওয়া নাই। আর জামায়াতের সাবেক এমপির কোনো ছবি সেখানে টাঙানো হয়নি।’
‘আরেকটি বিষয়, আমি নিজে সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী। সেখানে জামায়াতের সঙ্গে এমপির চুক্তি হওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ অবান্তর। আমার রক্ত আওয়ামী লীগের, জামায়াতের নয়। তাই জামায়াতের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে নদভীর দাবি করা ছয়টি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রিটন সরকার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত আড়াই মাসে মাদক নিয়ে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মামলায় অভিযুক্ত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর বাইরে আর কোনো হত্যার ঘটনা ঘটেনি।’
একইভাবে জাতীয় নির্বাচনের পর লোহাগাড়া থানা এলাকায় কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।