প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১৪:২১ পিএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১৪:৫০ পিএম
ফারদিন নুর পরশ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারদিন নুর পরশকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে হত্যা করা হতে পারে বলে দাবি করেছেন তার বাবা কাজী নুর উদ্দিন।
নিখোঁজের তিন দিন পর গতকাল নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ফারদিনের বাবা বলেন, আমার ধারণা, তাকে শুক্রবার হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তার ব্যবহৃত মুঠোফোন, ঘড়ি ও মানিব্যাগ সঙ্গেই পাওয়া গেছে। আমার ছেলে খুব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি ডিবেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আগামী মাসে স্পেনের মাদ্রিদে একটি ডিবেটিং অনুষ্ঠানে তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। আমি এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাই।
ফারদিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে কিনা সে রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র্যাব।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি হায়াতুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে তার বন্ধু-বান্ধবীসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
গত ৪ নভেম্বর রাতে নিখোঁজ হবার আগে রামপুরা এলাকায় তার বান্ধবী আমাত উল্লাহ বুশরাকে বাসায় নামিয়ে দেয়। তারপর থেকেই নিখোঁজ হয় ফারদিন। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে ধারণা পরিবারের।
সোমবার (৭ নভেম্বর) বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলের পেছনে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ফারদিনরা রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া শান্তিবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
নিহতের পরিবার ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, ফারদিন নিখোঁজের পর তার বাবা রাজধানীর রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি হায়াতুল ইসলাম খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ফারদিনের মোবাইল ফোনের লোকেশন চেক করে দেখা গেছে, গতকাল সে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিচরণ করেছে। তবে মোবাইলটি সে ক্যারি করেছে না অন্য কেউ ক্যারি করেছে তা তদন্ত সাপেক্ষ।
তিনি বলেন, ফারহানের নিখোঁজের ঘটনায় রামপুরা থানায় জিডি করেছেন তার বাবা। আমরা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ফারদিনের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থীর নিখোঁজের খবরে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে র্যাব। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে র্যাবের একাধিক টিম।