বরিশাল সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ০৯:৪৬ এএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১৪:০২ পিএম
নগরীর অধিকাংশ রাস্তা খানাখন্দে ভরা। ছবি : প্রবা
বরিশাল মহানগরের নবগ্রাম সড়কে একটি রিকশা উল্টে যাত্রী ছিটকে পড়েন রাস্তায়। এ সময় পেছন থেকে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা এলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন দৃশ্য এ নগরে এখন প্রায়ই দেখা যায়।
এর অন্যতম কারণ সড়কটি খানাখন্দে ভরা। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে পানিতে ডুবে যাওয়ার পর নগরের অধিকাংশ সড়কের বুক চিরে ভাঙাচোরার ক্ষত জেগে উঠেছে। আর এ ক্ষতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন নগরবাসী। নগরের এমন কোনো অলিগলি নেই, যেখানে রাস্তা বেহালদশা হয়নি।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নইমুল হোসেন লিটু বলেন, করপোরেশন ইতোমধ্যে বড় সড়কগুলো সংস্কার করেছে। নগরের অলিগলির রাস্তা সংস্কার শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে।
সরেজমিন নগরের কলেজ রোড, নবগ্রাম, কালু শাহ সড়ক, নিউ সার্কুলার রোড, গোরস্থান রোড, এম এ গফুর সড়ক, ফকিরবাড়ী সড়ক, জিয়ানগর সড়ক, দরগাবাড়ী সড়ক, ভাটিখানা সড়ক, কাশিপুর কলোনি সড়ক, পশ্চিম কাউনিয়া সোবাহান মিয়ার পুল খালপাড় সড়ক, সাগরদী ব্রাঞ্চ রোড ঘুরে দেখা গেছে মানুষের চলার মতো অবস্থা নেই।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ অবস্থা অনেক আগে থেকেই, তবে সিত্রাংয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, সিটি করপোরেশন বড় কয়েকটি সড়ক পাঁচ বছরের গ্যারান্টিতে সংস্কারের কথা বললেও নগরের অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ রাস্তার পরিস্থিতি বেহাল।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রকৌশল শাখার তথ্যমতে, ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ করপোরেশনে মোট ৫৯৩ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে পিচ ঢালাই ২৬৭ কিলোমিটার। এর অর্ধেকের বেশি রাস্তা ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় সংস্কারযোগ্য।
কথা হয় নিউ সার্কুলার রোডের বাসিন্দা মাসুদ আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানান, এ সড়ক দিয়ে রিকশায় চললেও বৃদ্ধ ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নগরীর অধিকাংশ রাস্তা খানাখন্দে ভরা। ছবি : প্রবা
জিয়ানগরের বাসিন্দা সালাম বলেন, সড়কগুলো ভাঙাচোরা কয়েক বছর আগে থেকেই। সংস্কারের কোনো উদ্যাগ নেই। অথচ নিয়মিত সিটি কর দিচ্ছেন তারা।
অটোরিকশা চালক আবদুর রহিম বলেন, বটতলা বাজার থেকে উঠে চৌমাথা পর্যন্ত ভাঙা রাস্তায় চলতেই যাত্রীরা তাদের গালাগাল করেন। প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়তে হয় তাদের। পানি উঠে সড়কের বাকি সর্বনাশ করেছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের বরিশাল জেলা সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, ‘সিত্রাংয়ের প্রভাবে পানিতে ডুবে ছিল নগরের সব রাস্তা। যে কারণে ইট-খোয়া বেরিয়ে গেছে। দীর্ঘ জলাবদ্ধতায় এ অবস্থা। এর দায় নগর কর্তৃপক্ষের। আগেও পদক্ষেপ নেয়নি, এখনও নেওয়া হচ্ছে না। এমন কোনো সড়ক নেই যেখানে পানি ওঠেনি; যে কারণে রাস্তার সর্বনাশ হয়েছে।’
এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার রোহান বলেন, নগরীর সব রাস্তা সংস্কারে টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।