দিনাজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ০৭:৫২ এএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১৩:৪৪ পিএম
রাস উৎসবের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত
হাজারো ভক্ত ও পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দিরে শুরু হলো রাস উৎসব।
অগণিত ভক্তের পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে সোমবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কাহারোল উপজেলার কান্তজিউ মন্দিরে মাসব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে রাসবেদিতে এ উৎসব শুরু হয়। উৎসব ঘিরে কান্তজিউ মন্দির চত্বরের বিশাল এলাকাজুড়ে বসেছে মাসব্যাপী মেলা। দেশের দূরদূরান্ত থেকে আসা হাজারো ভক্ত, পুণ্যার্থী ও দর্শকের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে মন্দির চত্বর। সারা রাত ভক্তরা তাদের মনোবাসনা পূরণে মন্দির দর্শন ও প্রার্থনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র সহসভাপতি মনোরঞ্জন শীল গোপাল, জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী ,পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদ, কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট রণজিৎ সিংহ।
রাস উৎসব ঘিরে দিনাজপুর কান্তজিউ মন্দির এলাকায় সব ধর্মের মানুষের ভিড় জমে উঠেছে।
রাস উৎসবের মধ্য দিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে দেশসহ পৃথিবী থেকে করোনা মহামারি দূর, দেশের মানুষের সুখ-শান্তি এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য প্রার্থনা করবেন ভক্তরা।
রাসপূর্ণিমার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ভক্ত, পুণ্যার্থী ও দর্শক এখানে আসতে থাকেন। কেউ আসেন মনোবাসনা পূরণে, কেউ পুণ্যলাভের আশায়, আবার কেউ আসেন মন্দির দর্শনে।
রাজদেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট রণজিৎ সিংহ জানান, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের যতগুলো লীলা আছে তার মধ্যে সর্বোত্তম রাসলীলা। এ লীলা অনুসারে রাসমেলা হয়ে থাকে।
১৭৫২ সালে মন্দিরের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গণে উৎসব ও রাস মেলা হয়ে আসছে। উপমহাদেশের বিরল স্থাপত্যের মন্দিরটি ঘিরে ঐতিহাসিকতার পাশাপাশি এ মেলার পরিচিতি রয়েছে অসাম্প্রদায়িকতার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দিনাজপুর রাজবংশের রাজা প্রাণনাথ ১৭২২ সালে দিনাজপুর শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার উত্তরে কাহারোল উপজেলার কান্তনগরে কান্তজিউ মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু করেন। ১৭৫২ সালে কাজ শেষ করেন তার পোষ্যপুত্র রামনাথ।
সে সময় থেকেই কান্তজিউ বিগ্রহ নয় মাস কান্তনগর মন্দিরে এবং তিন মাস দিনাজপুর শহরের রাজবাড়িতে অবস্থান করে। জন্মাষ্টমীর দুই দিন আগে কান্তজিউ বিগ্রহ ধর্মীয় উৎসব-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে নিয়ে আসা হয়। এ তিন মাসে রাজবাড়িতে প্রতিদিন প্রভাতি নামকীর্তন ও প্রতি বাংলা মাসের প্রথম শনিবার ভোগের ব্যবস্থা করা হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন ভক্ত প্রতিদিন ভোগের ব্যবস্থা করেন। রাজ পরিবারের রীতি অনুযায়ী কান্তজিউ বিগ্রহ রাজবাড়িতে তিন মাস অবস্থানের পর রাসপূর্ণিমার দুই দিন আগে বিগ্রহ পায়ে হেঁটে কান্তনগর মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। যুগ যুগ ধরে এ নিয়ম মেনে আসছেন ভক্তরা।