চট্টগ্রাম ওয়াসা
সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৪ ০৯:৩২ এএম
আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৪ ১০:৩৫ এএম
চট্টগ্রাম ওয়াসা। ছবি : সংগৃহীত
‘সেহরি খাওয়ার আগ মুহূর্তে দেখি কল দিয়ে পানি আসছে না। প্রথমে মনে করেছিলাম পাইপলাইনের সমস্যা। কিন্তু কেয়ারটেকারের কাছে জানলাম, ওয়াসার লাইন থেকে পানি আসেনি। এরপর কোনোমতে সেহরিটা সেরে ঘুমোতে যাই। দিনের বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি পানি আসেনি। রমজানের প্রথম দিন এভাবে পানির বিড়ম্বনা হলে পুরো মাস কীভাবে কাটাব?’ চট্টগ্রাম মহানগরীর বাদুরতলার বাসিন্দা মোহাম্মদ সাকিব মঙ্গলবার দুপুরে এভাবেই পানি সরবরাহে দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরেন।
রমজান এলেই ওয়াসার পানির সংকট তীব্র হয়ে ওঠে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহ থেকে এমনিতেই লবণের কারণে ওয়াসার পানি ফুটিয়েও খাওয়া যাচ্ছিল না। এর মধ্যে এখন আবার পানি সরবরাহই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘরে ইফতারি বানানোর জন্য বাইরে থেকে দুইটা পানির জার কিনে এনেছি। জানি না এই রমজান কীভাবে যাবে।’
শুধু এই বাদুরতলা নয়, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি নিয়ে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নগরীর চকবাজার, কার্পাস গোলা, কাতালগঞ্জ, খুলশী, হালিশহর, উত্তর কাট্টলী, পতেঙ্গা, দেওয়ান বাজার, মুরাদপুর, মাঝিরঘাট, পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টেশ্বরী, বাকলিয়া, কালুরঘাট শিল্প এলাকা ও লালখান বাজার এলাকায় লাখো বাসিন্দা পানি সংকটে বেকায়দায় পড়েছেন।
আগ্রাবাদ মুহুরীপাড়া এলাকার গৃহবধূ সাইমা জামান বলেন, ‘রমজানে নানা ইফতারসামগ্রী বানাতে হবে। তাই পানি একটু বেশি লাগে। এই সময়ে অন্তত ওয়াসার উচিত পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।’ পতেঙ্গা এলাকার সাইফুদ্দিন আহমদ বললেন একটু ভিন্ন কথা, ‘দুয়েক দিন থেকে ওয়াসার পানি সমস্যা করছে। একবার আসে একবার যায়। যেহেতু রোজা রাখতে হবে, তাই ১৫ লিটারের পানির জার কিনে রাখছি। জার সরবরাহের জন্য তাদের মোবাইল নম্বরও নিয়েছি। যখন লাগবে তখন তাদের ফোন দেব। প্রতিটি জার ১২০ টাকা করে কিনেছি।’
চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্মকর্তাদের দাবি, কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে যাওয়া, হালদা ও কর্ণফুলী নদীতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পানি উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। দৈনিক ৫০ থেকে ৫২ কোটি লিটার চাহিদার বিপরীতে স্বাভাবিক সময়ে উৎপাদন ছিল ৫০ কোটি লিটার। কিন্তু লবণ বেড়ে যাওয়ায় জোয়ারের সময় অন্তত আট ঘণ্টা পানি উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতেই পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
সংকট প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, স্বাভাবিক সময়ে হালদায় পানির স্তর যেখানে মাইনাস ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ থাকত, সেখানে এখন কমে মাইনাস ফিফটিন হয়েছে। কর্ণফুলী নদীতেও পানি কমেছে অনেক। তাই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আট কোটি লিটার পানি উৎপাদন কম হচ্ছে। এ কারণে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। সংকট কাটাতে নদীতে চ্যানেল কেটে পানিপ্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ৪৫টি গভীর নলকূপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বর্তমানে তাদের আবাসিক সংযোগ রয়েছে ৭৮ হাজার ৫৪২টি এবং বাণিজ্যিক সংযোগ রয়েছে ৭ হাজার ৭৬৭টি।