× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলার আসামি হয়ে দুই ভাই কারাগারে

লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৪ ২০:১৭ পিএম

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৪ ২০:৩৪ পিএম

রায়পুর থানা। প্রবা ফটো

রায়পুর থানা। প্রবা ফটো

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন নিয়ে মারামারির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে না থেকেও রাজন মিজি ও রিয়াদ আহম্মদ নামে দুই ভাইকে একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে। পরে সেই মামলায় দুজনকেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এমন ঘটনা ঘটেছে রায়পুর থানায়।

শনিবার (৯ মার্চ) বিকালে রাজন ও রিয়াদের ছোট ভাই মোরশেদ আলম বিষয়টি জানিয়েছেন। জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রায়পুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর দেনায়েতপুর মিয়াজি বাড়ি ও হুতার বাড়ির সামনে লুৎফর রহমান মিয়াজিদের সঙ্গে হান্নান মিয়াজিদের মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের লোকজন আহত হয়। মারামারিতে লুৎফর রহমানও আহত হন। খবর পেয়ে পরদিন তার বড় ছেলে রাজন কর্মস্থল মুন্সীগঞ্জ ও রিয়াদ গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে বাবাকে দেখতে বাড়িতে আসেন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরের বিস্তারিত কল রেকর্ড সূত্রেও তা জানা গেছে। 

কল রেকর্ড সূত্রে জানা গেছে, রাজন ঘটনার দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ সদরে ছিলেন। অন্যদিকে রিয়াদ ছিলেন টঙ্গীর গাজীপুরে। কল রেকর্ডটি রাজন ও রিয়াদের কি না, তা যাচাই করতে তাদের নম্বরে প্রতিদিনের বাংলাদেশের ঢাকা অফিস থেকে ফোন করা হয়। রাজনের ফোনটি ধরেন তার স্ত্রী। পরিচয় গোপন রেখে কথা হয় তার সঙ্গে। জানতে চাওয়া হয় রাজন কোথায়। তখন রাজনের স্ত্রী জানান, তার স্বামী কারাগারে। অন্যদিকে রিয়াদের ফোনটি ধরেন তার বোন। তিনিও রিয়াদের কারাগারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজন মুন্সীগঞ্জে কনস্ট্রাকশনের কাজ করেন ও রিয়াদ টঙ্গী এলাকায় এসি মেরামতের কাজ করেন।   

রিয়াদের কল লিস্ট সংযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে লুৎফর রহমানকে পিটিয়ে আহতের ঘটনায় ১ মার্চ তার ছোট ছেলে মোরশেদ আলম বাদী হয়ে রায়পুর থানায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এ ঘটনায় ৩ মার্চ খুকি বেগম ও ফারজানা পারভিন কাজল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন খুকি ও কাজলসহ অপর অভিযুক্ত লিমন হোসেন, রায়হান হোসেন, রিফা আক্তার, রিফা বেগমকে আদালত জামিন দেয়। তবে মামলার আসামি হান্নান মিয়াজি, ফিরোজ মিয়াজি ও ইসমাইল মিয়াজি পলাতক রয়েছেন।

অন্যদিকে ৬ মার্চ রায়পুর থানায় পাল্টা মামলা করেন ফিরোজ মিয়াজির স্ত্রী ফারজানা পারভিন কাজল। এ মামলায় ঘটনার পরদিন বাড়িতে আসা রাজন ও রিয়াদসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) পুলিশ বাড়ি থেকে রাজন ও রিয়াদকে গ্রেপ্তার করে আদালত পাঠায়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মোরশেদ আলম বলেন, ‘রাজন ও রিয়াদ ভাই বাবাকে দেখতে বাড়িতে এসেছেন। তারা ঘটনার দিন বাড়িতে ছিলেন না। এরপরও তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত না করেই আমার ভাইদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।’

মোরশেদের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান ইরফান বলেন, ‘মামলার তিনজন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। এ ছাড়া প্রতিপক্ষের মামলায় মোরশেদের দুই ভাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে তারা ঘটনার দিন বাড়িতে ছিলেন না বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।’

ফারজানা পারভীন কাজল বলেন, ‘মারামারির সময় আমার ছেলে রায়হান ঘটনাস্থল ছিল না, তাকে আসামি করা হয়েছে। আমি ছাড়াতে গেছি, আমাকেও আসামি করা হয়েছে। আর ঘটনার সময় রাজন ও রিয়াদসহ বহিরাগত কয়েকজন উপস্থিত ছিল। বৃহস্পতিবারও তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে।’

ফারজানার করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বলেন, ‘মামলার প্রেক্ষিতেই অভিযুক্ত রাজন ও রিয়াদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। ঘটনার দিন তারা কোথায় ছিলেন, তা আমাদের জানা নেই। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানা যাবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা