চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৪ ১৮:৪৫ পিএম
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিক আয়শা খান। প্রবা ফটো
পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিক আয়শা খান। তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক হচ্ছে। তখন পাচার হওয়া টাকাগুলো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। দুই দেশের মধ্যে আইনগত অ্যাগ্রিমেন্ট (চুক্তি) হওয়ার পরেই কিন্তু পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা সম্ভব। এ কাজগুলো চলমান আছে।’
অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাবার পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে এসে শনিবার (৯ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাকা পাচারের বিষয়টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ (বাংলাদেশ ফিন্যান্স ইন্টেলিজেন্স ইউনিট)। বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়।
হুন্ডি দেশের জন্য ক্ষতিকারক জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আপনারা জাতির বিবেক, টাকা পাচারের বিষয়ে আপনাদের কথা বলতে হবে। হুন্ডিটা দেশের জন্য কতটুকু ক্ষতিকারক, সেটা আপনাদের বলতে হবে।
প্রবাসীদের প্রণোদনা সংক্রান্ত বিষয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষদিনে আমরা অফশোর ব্যাংকিং আইন পাস করেছি। এটা কিন্তু বিভিন্ন ব্যাংকে আগে থেকেই ছিল। নতুন আইনে শুধু কোম্পানি না, ব্যক্তিও অফশোর ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট করতে পারবে। শুধুমাত্র কারেন্ট অ্যাকাউন্ট না, ডিপোজিট অ্যাকাউন্টও করতে পারবে। বৈদেশিক মুদ্রায় ডিপোজিট করতে পারবে।
ডলার কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার ডিপোজিটে আকর্ষণীয় সুদ দেওয়ার জন্যই আইনটা পাস করা হয়েছে জানিয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসী ভাই-বোনেরা যারা বিভিন্ন দেশে কাজ করেন, কিন্তু ডিপোজিটের সুদ খুব কম, এখানে ডিপোজিটের ব্যবস্থা আছে। এখানে আকর্ষণীয় সুদ দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে, এটাই এক ধরনের প্রণোদনা।’
করযোগ্য আয় আছে এমন নাগরিকরা যেন কর দেন, সেই সচেতনা সৃষ্টির জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের করযোগ্য আয় আছে, প্রত্যেকে যেন কর দেন, আপনারা সবাইকে সচেতন করবেন। কর দেওয়া মানে দেশের অগ্রগতিতে অংশ নেওয়া। সর্বজনীন পেনশন স্কিমটা খুব চমৎকার, এটার জন্যও একটু লিখুন। দেশে এবার রিটার্ন জমা দিয়েছে ৩৩ লাখের বেশি।’
ওয়াশা আয়শা খান আরও বলেন, ‘আমি চট্টগ্রামের সন্তান। পরিবারের দিক থেকে আমি চতুর্থ প্রজন্মের প্রতিনিধি। চট্টগ্রামের প্রতি অবশ্যই আমার আবেগ আছে, দায়িত্বও আছে। চট্টগ্রামের জন্য আগেও উচ্চপর্যায়ে কথা বলেছি, এখনও বলব। না চাইলে তো পাওয়াটা কঠিন হয়ে যায়। বাংলাদেশ যেভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে গেছে, নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই কিন্তু এগিয়েছে। দেশের অভ্যন্তর থেকে এবং আন্তর্জাতিকভাবে অনেক চ্যালেঞ্জ এসেছে। সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই কিন্তু শেখ হাসিনা দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশের রূপান্তরকালে শেখ হাসিনার যে নেতৃত্ব, তাতে আমাদের সবাইকে অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। আরও বন্ধুর পথ আসতে পারে।’
অর্থ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামা লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, সদস্য সালাউদ্দিন সাকিব, চসিক কাউন্সিলর রুমকি সেনগুপ্ত প্রমুখ।