গাইবান্ধা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৪ ০৯:১৪ এএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪ ১১:২০ এএম
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ৬ নম্বর ধাপেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম ভবানীপুর গ্রাম নামে পরিচিত এই জনপদে নেই কোনো জনবসতি, নেই কোনো ভোটার। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
কাগজ-কলমে গ্রামের নাম থাকলেও এখানে নেই কোনো জনবসতি, এমনকি নেই কোনো ভোটার। জনমানবহীন এ গ্রাম ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রেও। এমন একটি গ্রামের খোঁজ মিলেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায়।
যেদিকে চোখ যায়, চারদিকে শুধু বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, নেই কোনো জনবসতি। উপজেলার ৬নং ধাপেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম ভবানীপুর গ্রাম নামেই পরিচিত এই জনপদ। প্রায় ১২শ একর আয়তনের গ্রামটিতে বসবাস নেই স্বাধীনতার আগ থেকেই। এ ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের মধ্যে পশ্চিম ভবানীপুরও একটি গ্রাম।
পার্শ্ববর্তী গ্রামের স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতার আগে পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসবাস ছিল। দেশ স্বাধীনের আগেই তারা পাড়ি জমান ভারতে। তখন থেকেই জনমানবহীন হয়ে পড়ে গ্রামটি।
আলীনগর গ্রামের মনসুর আলী বলেন, এই গ্রামে আমার জমি আছে কিন্তু কোনো বাড়ি নেই। বাপ-দাদার মুখে শুনেছি এই গ্রামে হিন্দু জমিদারদের বসবাস ছিল। স্বাধীনতার অনেক আগেই তারা দেশ ছেড়ে ভারত চলে যায়। তখন থেকেই এই গ্রামটি জনশূন্য হয়ে পড়ে।
নুরুন্নবী মিয়া নামে আরও একজন বলেন, জন্ম থেকে এই এলাকায় কোনো ভোটার নেই। গ্রামটিতে এখন বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। কিন্তু কেউ এখানে বসবাস করে না। সবাই পার্শ্ববর্তী আলীনগর গ্রামে বসবাস করেন। শুধু ফসল ফলানো কিংবা কাজকর্মের জন্য দিনের বেলা এখানে আসে সবাই। মানুষজন না থাকায় এ গ্রামে নেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
ভবানীপুর গ্রাম ঘুরেও চোখে পড়েনি কোনো বসতির। সম্প্রতি গ্রামে কয়েকটি পরিবার বসবাস শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে তারা পাশের আলিনগর গ্রামের ভোটার। তারা বলছেন, পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামে বসবাস করলেও নিজের নাম-পরিচয় আর ভোটার হিসেবে পরিচয় দিতে হয় আলিনগর গ্রামের হয়ে।
সুলতান নামে এক যুবক বলেন, জনমানবহীন বিরল এমন গ্রাম হওয়ায় পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামে গড়ে ওঠেনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা। তবে এই গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে থাকে পাশের আলিনগর গ্রামসহ আশপাশের এলাকার মানুষ। তিনি আরও বলেন, গ্রামটি বসবাসের উপযুক্ত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এদিকে নজর দেওেয়া। যে দু’চার জন এই গ্রামের মানুষ রয়েছে তাদের এই গ্রামের ভোটার করা উচিত।
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন বলেন, এই ইউনিয়নের বাইশটি মৌজার মধ্যে পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামে কোনো ভোটার নেই। মূলত এলাকাটি কৃষিনির্ভর। সম্প্রতি কয়েকজন এখানে বসবাস শুরু করেছেন। যারা এখানে বসবাস করেন তারা আবার পাশের আলিনগর গ্রামের ভোটার। পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামে যারা বসবাস করছেন, তারা যেন এই গ্রামের পরিচয় দিতে পারেন সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েছি।