কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৪ ১৯:০০ পিএম
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৪ ১৯:৪২ পিএম
রবিবার সৈকতে ইন্দোপ্যাসিফিক ফিনলেস প্রজাতির একটি শুশুককে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রবা ফটো
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্রতিনিয়ত ভেসে আসছে মৃত মা কচ্ছপ। শনিবার (২ মার্চ) রাতেও একটি অলিভ রিডলি মা কচ্ছপ মৃত অবস্থায় ভেসে আসে। তবে এবার শুধু কচ্ছপ নয়, একটি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী পরপইস বা শুশুকও মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে সৈকতে। বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট (বোরি) জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ জানতে অনুসন্ধান চলছে।
টেকনাফ সমুদ্রসৈকতের শামলাপুর চৌকিদারপাড়ায় মৃত সামুদ্রিক প্রাণীগুলো ভেসে আসে। শুশুকটি ৪ ফিট ৯ ইঞ্চি লম্বা এবং প্রায় ৪৫ কেজি ওজনের ইন্দোপ্যাসিফিক ফিনলেস প্রজাতির।
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘টেকনাফের শামলাপুর এলাকায় একটি ৪ ফিট ৯ ইঞ্চি লম্বা ও প্রায় ৪৫ কেজি ওজনের ইন্দোপ্যাসিফিক ফিনলেস পরপইস এবং একটি অলিভ রিডলি মা কচ্ছপ মৃত অবস্থায় ভেসে এসেছে। সংবাদ পেয়ে বোরির একটি উদ্ধারকারী টিম পরপইস ও কচ্ছপটি উদ্ধার করে বোরি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’
এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসে একটি মৃত ইরাবতি ডলফিন। ১৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণে সোনারপাড়া সৈকতে ও ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণে পাটুয়ারটেক সৈকতে মৃত দুটি ডলফিন ভেসে আসে। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে হিমছড়ি সৈকতে একটি ডলফিন ও তার আগের দিন শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট সৈকতে একটি পরপইসের মরদেহ ভেসে এসেছিল। এ ছাড়া কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ভেসে এসেছে ১০৩টি মৃত মা কচ্ছপ।
২০১২ সালের বাংলাদেশ বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে স্তন্যপায়ী ডলফিন, পরপইস ও সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এগুলো শিকার করা, খাওয়া, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
কী কারণে হঠাৎ করে কক্সবাজার বঙ্গোপসাগরে ডলফিন, পরইসসহ এত সংরক্ষিত প্রাণী মারা যাচ্ছে, তা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও পরিষ্কার নয়। তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদ।
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাণীগুলোর আবাসস্থলে কোনো বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে কি না, তা-ও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’