× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মায়ের সঙ্গে রকির শেষ কথা

‘মা, আমার রেস্টুরেন্টে আগুন, আমারে বাঁচাও’

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৪ ১৯:৪০ পিএম

বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কামরুল হাবিব রকি। প্রবা ফটো

বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কামরুল হাবিব রকি। প্রবা ফটো

কামরুল হাবিব রকি। সবে লেখাপড়া শেষ করে বেকার ছিলেন। দরিদ্রের পরিবারে হাল ধরতে একসময় ঢাকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চাকরির জন্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করতে থাকেন। একপর্যায়ে মামার সহযোগিতায় চাকরি পান রাজধানীর বেইলি রোডে কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয়। কাজ শুরু করেন ক্যাশিয়ার পদে। সবকিছু ঠিকভাবে যাচ্ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে রেস্তোরাঁয় আগুন লেগে শেষ হয়ে গেল তার জীবনটাই। শুধু নিজের জীবন নয়, নিমেষেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে তাকে নিয়ে দেখা পরিবারের স্বপ্ন।

শুক্রবার (১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রকির মরদেহ পৌঁছায় গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ধোপাখোলা কামার পাড়ায়। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করেন একনজর শেষ দেখার জন্য। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রকিবের বাড়িতে দেখা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন রকির বাড়িতে ভিড় করছেন। বাড়ির উঠানে খাটিয়ার রকির মরদেহ। তাকে ঘিরে স্বজনেরা চেয়ারে বসে আছেন। একটু দূরেই চেয়ারে দাদি রেহেনা বেগম আহাজারি করছেন। এর একটু দূরে রকির মা রিপা খাতুন বিলাপ করছেন। নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

রিপা খাতুন বলতে লাগলেন, ‘তুমি (রকি) না বলেছিলে আমারে ছাড়া থাকতে পারবা না। কেন তুমি আমারে ছেড়ে চলে গেলে বাবা। আমারে খুব ভালোবাসত সে। আমি অসুস্থ হলে আমার সকল কাজে সহযোগিতা করত।’ আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমারে কল দিয়েছে। বলছে, মা আমার কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে আগুন লেগেছে। আমারে বাঁচাও। আমিও তারে সান্ত্বনা দিই, তোমার কিছু হবে না সোনা। দোয়া পড়ো, সব ঠিক হয়ে যাবে। তার পরেও সে বলত লাগল, মা আমি আর বাঁচব না। তার পরে ফোনের কেটে গেল। আর কিছু শুনতে পারলাম না। আর কোনো কথাও হলো না। ও আল্লাহ, তুমি আমার সোনারে ফিরিয়ে দাও। আমার সোনার বদলে আমারে নিয়ে নাও।’

নিহত রকির ভাই কামরান হোসেন সাজিম বলেন, ভাই আলিম পাস করে গত ডিসেম্বর মাসে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে ক্যাশিয়ার পদে চাকরি নেন রকি। আগুন লাগলে রকি ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। আগুনের ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের তিন ভাইয়ের মধ্যে রকি সবার বড়। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে চাকরি করে সংসারের হাল ধরেছিলেন। বাবা ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালান। তাদের দুইজনের আয়ে আমাদের সংসার চলত। ভাইকে এভাবে হারাতে হবে কখনো কল্পনাই করিনি।

রকির মামা জিহাদ হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে রকির মেসেঞ্জারে ভিডিও কল দিয়েছি। সে রিসিভ করেনি। পরে আমাকে কল ব্যাক করে বাঁচানোর আকুতি জানায়। আমাকে বলে, মামা আমাদের ব্রাঞ্চে (কাচ্চি ভাই বেইলি রোড শাখা) আগুন লাগছে। আমি আটকা পড়েছি। আমাকে বাঁচাও। কিছুক্ষণ পর কল কেটে যায়। আমি ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে বিষয়টি জানাই। তারা জানায়, উদ্ধারকাজ চলছে, ধৈর্য ধরুন। এরপর আমি ঢাকায় রওনা হই। সেখানে হাসপাতালে পাই রকিকে। ততক্ষণে তার মৃত্যু ঘোষণা করেছে ডাক্তার।’

তিনি বলেন, ‘আমিই রকিকে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিলাম। ওর চাকরির পর আমিই ঢাকা চিনিয়েছি। গত ডিসেম্বরে রকি চাকরিতে ঢুকেছে। আজ ওর লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরলাম।’ ছেলের মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর শোকে মতম করছে বাবা। প্রতিবেশীরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা