সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:৫৪ পিএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:৩৯ পিএম
সংঘর্ষের পর হাজী ইরফান উদ্দিন পেট্রোল পাম্প। প্রবা ফটো
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২২ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের তারাইল হাজী ইরফান উদ্দিন পেট্রোল পাম্পের সামনে এক্সপ্রেসওয়েতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে এক্সপ্রেসওয়েতে আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
আহতরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোখলেসুর রহমান সুমন মাতুব্বরের (কাজী জাফরউল্লার সমর্থক) সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক তালুকদার ও সাইদুল শিকদারের (নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক) দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ দুই গ্রুপের সঙ্গে এর আগেও কয়েক দফা হামলা, মামলা ও সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার সকালে ঈশ্বরদী গ্রামের আতাহার চৌধুরীর স্ত্রীর মারা গেলে সেখানে সুমনের লোকজন জানাজায় অংশ নেয়। এ সময় ফারুক তালুকদার ও সাইদুল শিকদারের লোকজন সুমন মাতুব্বরের দলের রাজিব মাতুব্বরকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়।
এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার দুই গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাইওয়ে এক্সপ্রেসের ওপর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২২ জন আহত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে সুমন মাতুব্বরের হাজী ইরফান উদ্দিন ফিলিং স্টেশন পেট্রোল পাম্প, পাঁচটি মোটরসাইকেল, দুটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে ভাঙ্গা থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে মোকলেসুর রহমান সুমন বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজী জাফরউল্লার নৌকা মার্কার নির্বাচন করেছি এবং আগামী উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। তারাইল ঈশ্বরদী গ্রামের ফারুক তালুকদার ও সাইদুল শিকদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সম্মানহানি ও ক্ষতি করার জন্য আমার লোকজনকে ধরে নিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে। কয়েকজনকে মারধর করেছে। আমার পেট্রোল পাম্পটি ব্যাপক ভাঙচুর করেছে।’
ফারুক তালুকদার বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা মোখলেছুর রহমান সুমনের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। আমাদের লোকজন পেলেই সুমনের লোকজন মারধর করে। আজকে আমার একজন লোককে মারার কারণে মারামারি হয়েছে।’
ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল মিয়া বলেন, ‘সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। সংঘর্ষ চলাকালে একটি পেট্রোল পাম্প ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল-রশিদ বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনা স্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’