রংপুর অফিস
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:২৯ পিএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:৩৫ পিএম
মঙ্গলবার বিকালে পল্লীনিবাস বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদ। প্রবা ফটো
জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্টভুক্ত প্রতিষ্ঠান রংপুরের পল্লীবন্ধু কোল্ড স্টোরেজে এরিক এরশাদ ও তার মা বিদিশার ওপর হামলা-শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে পল্লীনিবাস বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন এরশাদপুত্র।
সংবাদ সম্মেলনে এরিক এরশাদ বলেন, ‘আমার বাবা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুর পূর্বে আমার ভরণপোষণের জন্য বেশ কিছু সম্পদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ট্রাস্টের নামে করে যান। সেই সম্পদগুলো ভোগ করব আমি। এর মধ্যে রংপুরের মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জের পল্লীবন্ধু কোল্ড স্টোরেজও রয়েছে। তবে এই হিমাগারের শতকরা ৩০ ভাগ শেয়ার দেওয়া হয় বাবা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চাচাতো ভাই সামছুজ্জামান মুকুলের নামে।
‘বাবার মৃত্যুর পর ট্রাস্টের আওতাধীন হিমাগারটি পরিচালিত হলেও আমি এর লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছি। ট্রাস্টের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও জবরদখলের মাধ্যমে পল্লীবন্ধু হিমাগারটি কুক্ষিগত করে রেখেছেন বাবার চাচাতো ভাই মুকুল ও স্থানীয় প্রভাবশালী বারী মুন্সি। মঙ্গলবার সকালে আমি ও মা বিদিশা ঢাকা থেকে রংপুর নগরীর পল্লীনিবাসে আসি। বাবার কবর জিয়ারত শেষে পল্লীবন্ধু কোল্ড স্টোরেজে যাই। সেখানে বারী মুন্সি ও সামসুজ্জামান মুকুলের লোকজন আমাকে ও মাকে ধাক্কাধাক্কি, গালিগালাজ দিয়ে হিমাগার থেকে বের করে দেয়। একপর্যায়ে তারা মারমুখী হলে পুলিশে খবর দিই। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করলে আমরা পল্লীনিবাসে ফিরে আসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভরণপোষণের জন্য বাবা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট গঠন করলেও আমি আমার প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছি না। আমার কোল্ড স্টোরেজ লুটেপুটে খাচ্ছে বারী মুন্সি ও মুকুলের ছেলেরা। তাদের বোঝা উচিত আমি এতিম, আমার বাবা নেই। এরপরও তারা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে, আমার মাকে গালিগালাজ করেছে। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে আমি ন্যায্যবিচার চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে বিদিশা বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের যে কমিটি ছিল তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও তারা এরিকের সম্পত্তি হ্যান্ডওভার করছে না। এরিক একজন প্রেসিডেন্টের সন্তান। তার বাবা বেঁচে থাকাকালীন সে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছে। বর্তমানে ট্রাস্টের সম্পত্তির টাকা না পাওয়ায় সে আর্থিক সংকটে ভুগছে। তার স্বাভাবিক জীবনযাপন নেই। আজ হিমাগারে গেলে ধাক্কাধাক্কি, গালিগালাজ করাসহ আমার শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর ন্যায্যবিচার চাই।’
তিনি বলেন, ‘হিমাগারের ৩০ শতাংশ শেয়ার এরিকের চাচা মুকুলের নামে রয়েছে। সে এরিকের কোনো খোঁজ রাখে না। ফোন করলে তিনি ফোন ধরেন না। বলা যায়, গায়ের জোরেই এরিকের হিমাগার তারা লুটেপুটে খাচ্ছে।’
বিদিশা আরও বলেন, ‘এরিকের চাচা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, বিরোধীদলীয় নেতা হলেও কেউ এরিকের খোঁজখবর রাখেনি। আমাদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার হচ্ছে দলের কোনো নেতা একবার ফোন করে খবর নেয়নি। তাই এরিক বিষয়টি জাপা চেয়ারম্যানকে জানায়নি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বারী মুন্সি তাদের উপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এরিক এরশাদ কিছু লোকজন নিয়ে এসে হিমাগারে বিশৃঙ্খলা তৈরিসহ হুমকি-ধামকি দিয়েছিল। এ ব্যাপারে আমরা স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেছি। তারা সংবাদ সম্মেলনে আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এরিক এরশাদ থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। হিমাগার যারা পরিচালনা করছেন তাদের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’