× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বিঘ্নে পার বেনাপোল, ধরা পড়ে ভারতে

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:৪৮ এএম

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:২৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান ও বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল। এ বন্দর ব্যবহার করে প্রতিদিন কয়েক হাজার মেট্রিক টন পণ্য ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আমদানি-রপ্তানি হয়। এ বন্দরের আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে দুই দেশ থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করে পাঁচ থেকে ছয় হাজারের অধিক যাত্রী। এসব যাত্রী ও পণ্যের আড়ালে কৌশলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার হচ্ছে স্বর্ণের চালান।

প্রতিদিন নির্বিঘ্নে শত শত কেজি স্বর্ণের বার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হয়ে যায়। ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে মাঝেমধ্যে এসব স্বর্ণের ছোট-বড় চালান ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে। তবে তার বিপরীতে স্বর্ণ পাচারের প্রধান রুট বেনাপোল সীমান্তে কমসংখ্যক স্বর্ণ ধরা পড়ে। যা ধরা পড়ে সেগুলোও যৎসামান্য। কিন্তু অধিকাংশ সময় স্বর্ণের মূল মালিক থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এসব স্বর্ণের মূল মালিক বা গডফাদাররা ধরা না পড়ায় বেনাপোল সীমান্তে সোনা চোরাকারবারিরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ অংশে সংশ্লিষ্টদের দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থায় অবাধে স্বর্ণের বারসহ মূল্যবান সামগ্রীও প্রতিনিয়ত পাচার হয়ে যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার পেট্রাপোল সীমান্তে বিএসএফ সদস্যরা আবু বকর মুন্সী, পারভিন আক্তার ও সাইফুল ইসলামকে দশটি স্বর্ণের বারসহ আটক করেন। শনিবার ৩ কেজি ওজনের ২৫টি স্বর্ণের বারসহ পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাকচালক রাজু দাস ও তার সহকারী সঞ্জীব দাসকে আটক করে বিএসএফ। একই দিন যাত্রী রিবা উদ্দিনকে ৩টি স্বর্ণের বারসহ আটক করে বিএসএফ। ১৩ ফেব্রুয়ারি নাজরীন নাহার নামে এক বাংলাদেশি যাত্রীকে ৪ পিস স্বর্ণের বারসহ আটক করে বিএসএফ। ১৬ ফেব্রুয়ারি ৮৫০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের বারসহ আবু বক্কর হানিফা ও জিয়া উদ্দিন নামে দুই ভারতীয় পাসপোর্টধারীকে আটক করে বিএসএফ।

এ ছাড়া গত বছরের ২ নভেম্বর পেট্রাপোল সীমান্তে বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশে আমদানি করা মালামাল নামিয়ে ফেরত যাওয়ার সময় পেট্রাপোলে একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে কেবিনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ৬ কেজি ৯৯৮ দশমিক ৫৮০ গ্রাম ওজনের ৬০টি স্বর্ণের বারসহ সুরজ মগ (২৩) নামে এক ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করেন। সে সময় বিএসএফ সদস্যরা চোরাকারবারির বরাত দিয়ে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ মামুন নামে এক চোরাকারবারি ১০ হাজার রুপির বিনিময়ে পেট্রাপোলের চোরাকারবারি আজগর শেখের হাতে ওই স্বর্ণ তুলে দেওয়ার কথা ছিল। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর বিএসএফ সদস্যরা উত্তর চব্বিশ পরগনার রানাঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৩ কেজি ওজনের ৬৬টি স্বর্ণের বারসহ ইন্দ্রজিৎ নামে এক যুবককে আটক করেন। যার দাম ছিল প্রায় ২৪ কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান রোধে কাস্টমসের ৩টি স্ক্যানিং মেশিন বসানো হয়। স্ক্যানিং মেশিনগুলো কাস্টমসের পক্ষে পরিচালনা করে আসছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাসোসিয়েটস। তবে স্ক্যানিং মেশিনগুলোর প্রায় অধিকাংশ সময় কৃত্রিমভাবে অকেজো দেখানো হয়। ফলে যাত্রীদের লাগেজ হাতিয়ে প্রতিদিন এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে কামাই করেন। আর এই সুযোগ ব্যবহার করে স্বর্ণ পাচারকারিসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্র। একদিকে যেমন আমদানি ও রপ্তানি ট্রাকগুলোর মাধ্যমে ভারতে প্রচার হচ্ছে মূল্যবান স্বর্ণের বার চালান। অন্যদিকে পাসপোর্ট-যাত্রীরা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন ও আন্তর্জাতিক রেলস্টেশন ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে অবাধে পাচার করছে এসব স্বর্ণের বার।

যশোর নাগরিক সচেতন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ শাহিনুর রহমান বলেন, দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে বেনাপোল সীমান্ত ও বন্দর ও ইমিগ্রেশন এলাকা স্বর্ণ পাচারের ‘গোল্ডেন রুট’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে পাচারকারীরা স্বর্ণ নিয়ে নির্বিঘ্নে বেনাপোল পার হয়ে যাচ্ছে। তবে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় পেট্রাপোলে বিএসএফ সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তায় থাকায় অহরহ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সোনার চালানগুলো ধরা পড়ত।

স্ক্যানিং মেশিন তদারকিতে নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাসোসিয়েটসের বেনাপোল অফিসে দায়িত্বরত শামীম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ছিল যন্ত্রটি স্থাপনের। এরপর নষ্ট হলে এর দায়িত্ব কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। তাই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি মেরামত না করে সেটা তাদের ব্যাপার। 

বেনাপোল কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার অথেলো চৌধুরী বলেন, স্ক্যান মেশিন স্থাপনের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেরামত করে দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে তাদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কেন গুরুত্ব দিচ্ছে না, এ বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের পাবলিক রিলেশন অফিসার ডিআইজি শ্রী এ কে আর্য বলেন, অন্য কোন দেশে কোন ধরনের নিরাপত্তা আছে সেটা আমাদের জানা-বোঝার বিষয় নয়। তবে ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সর্বদা সজাগ রয়েছেন। কোনো অবস্থাতেই সীমান্তে অবৈধ কার্যকলাপের সুযোগ নাই বলে জানান তিনি।

বেনাপোল সীমান্তে স্বর্ণের বার ধরা না পড়ার কারণ জানতে বেনাপোল শুল্ক গোয়েন্দার ডেপুটি পরিচালক আরেফিন জাহেদীর মোবাইল ফোনে বারবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহমেদ জামিল হোসেন ও খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খুরশীদ আনোয়ারের মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও দুই কর্মকর্তার কেউই তাদের ফোন রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা