মাদারীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৭:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:৪৯ পিএম
পান বিক্রেতা শ্যামলের মৃত্যু ঘিরে হাসপাতালে সৃষ্টি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। প্রবা ফটো
মেরুদণ্ডে ব্যথা নিয়ে রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন পান বিক্রেতা শ্যামল দাস। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ব্যথার ইনজেকশন দেওয়া হয় তাকে। এর পর শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। একপর্যায়ে তিনি মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, নার্সের দায়িত্বে অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নার্সের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
শ্যামল দাস মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের আমিরাবাদ এলাকার রামজীবন দাসের ছেলে। জেলা শহরের পুরানবাজারের পান বিক্রি করতেন তিনি।
স্বজনদের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রিয়াদ মাহমুদ চিকিৎসাপত্র দিয়ে শ্যামলকে হাসপাতালে ভর্তি নেন। ব্যবস্থাপত্র দেখে রোগীকে ব্যথার ইনজেকশন দেন সিনিয়র নার্স সুজাতা। এর পরই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এ সময় নার্সকে অক্সিজেনের কথা বললে, ব্যস্ততা দেখিয়ে অন্য কাজে মনযোগ দেন। দেড় ঘণ্টা শ্বাসকষ্টে ভুগে রাত ৮টার দিকে মারা যান শ্যামল।
শ্যামলের ছোটভাই শংকর দাস অভিযোগ করে বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আমার ভাইকে ঠিকঠাক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তাই অল্প সময়ের মধ্যে আমার ভাই মারা গেছে। এই ঘটনার বিচার চাই।’
ফুফাতো ভাই গজেন দাস প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের ১১ বছরের এক ছেলে ও ১৪ বছরের এক মেয়ে রয়েছে। এই সংসারটা এখন কীভাবে চলবে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নার্সের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে অভিযুক্ত নার্স সুজাতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রবিবার থেকে তিনি আর হাসপাতালে আসেননি। ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। কথা বলা যায়নি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রিয়াদ মাহমুদের সঙ্গে। একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ও জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুনীর আহম্মেদ খান বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে ফোনে বিষয়টি চিকিৎসক আমাকে অবগত করেছেন। ঘটনা কী ঘটেছে, সবকিছুই পর্যলোচনা করে নার্সের দোষ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হচ্ছে, এমন খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’