তানভীর হাসান, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৪:০৩ পিএম
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:০৩ পিএম
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাধীন হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার। প্রবা ফটো
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাধীন হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার প্রকল্পটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বুঝে না নেওয়ায় পড়ে থেকে নষ্ট হতে বসেছে। এ ছাড়াও প্রকল্পকে ঘিরে ঠিকাদার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পৌরসভার মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভাজন। ফলে এর সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না পৌর নাগরিকবৃন্দ।এ ছাড়াও প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় বিপাকে পড়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় ১০ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকা ব্যয়ে ভূপৃষ্ঠ থেকে পানি শোধনাগার প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। ওই বছর কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণের সমস্যায় কাজ শুরু হতে দেরি হয়। ঠিকাদার বদলে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শুরু করে। এরপর নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সেগুলো পরিবর্তন করে কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে কাজ শেষ হয়। ৭৪ লাখ টাকা বর্ধিত ব্যয়সহ প্রকল্পের কাজে মোট ব্যয় হয় প্রায় ১১ কোটি টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৩৩০০ বগর্ফুট জায়গাজুড়ে পানি শোধনাগারটি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। ভেতরে জমে থাকা পানি পচে উৎকট গন্ধ ছড়াচ্ছে। অবকাঠামো ও পানিতে শ্যাওলা জমে আছে। পানি সরবরাহের পাইপ ও যন্ত্রাংশগুলোয় মরিচা পড়ে আছে। বালু ও ময়লা পড়ে পানির ড্রেনেজগুলো আবর্জনায় পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় প্রকল্পটি আবার চালু করতে গেলে এর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পানিশোধনাগারের উপযোগী করতে আরও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে।
ঠিকাদার মাসুদুর রশিদ বলেন, এই কাজ করতে গিয়ে লাভের বদলে উল্টো দেড় কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। আমি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে কাজটি বুঝে নিতে লিখিত ও মৌখিকভাবে একাধিকবার জানালেও তারা জানিয়েছে পৌরসভা প্রকল্পের কাজ বুঝে নিতে চাইছে না।
মুন্সীগঞ্জ জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বিদেশে থাকায় এ ব্যাপারে কথা হয় এস্টিমেটর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস এম আবদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি যৌথভাবে পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল ঠিকাদার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের। পৌরসভা কাজটি বুঝে নিচ্ছে না, এজন্য তারাও ঠিকাদারের কাছ থেকে নিতে পারছে না।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র সোহেল রানা বলেন, প্রকল্পের কাজ নিম্নমানের ছিল। এজন্য সাবেক মেয়র কাজটি বুঝে নেয়নি। এখন কাজ শেষ হয়েছে, এখন প্রকল্পটি বুঝে নিতে আলাপ আলোচনা চলছে। প্রকল্পটি ব্যবস্থাপনা খরচ মাসে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। এটা যাতে আবার বন্ধ না থাকে এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে বুঝে নেওয়ার আলোচনা চলছে।