× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ

টেকনাফ সীমান্ত, অনেকটাই শান্ত

কক্সবাজার অফিস

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৯:০৬ এএম

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:১৩ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের চলাচল বন্ধ রেখে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সোমবার দুপুরে। প্রবা ফাইল ফটো

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের চলাচল বন্ধ রেখে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সোমবার দুপুরে। প্রবা ফাইল ফটো

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার রেশ বাংলাদেশ সীমান্তে কমে এসেছে। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত তিন রাত কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে গুলির শব্দ পাওয়া যায়নি। ফলে কয়েক রাত ধরে শান্তিতে ঘুমিয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ। গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটের নাফ নদের মোহনায় ৯ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এদিকে রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তওয়ে দখলের চেষ্টায় রয়েছে আরাকান আর্মি (এএ)। যেকোনো সময় ভীষণ যুদ্ধ শুরু হওয়ার ভয়ে সিত্তওয়ে ছাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। 

গত সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে ওপারের গোলাগুলি ও ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দের আওয়াজ শোনা যায়নি বাংলাদেশ থেকে। কয়েকদিনের অশান্ত পরিবেশ ও ভয়ভীতি অনেকটা কেটে উঠছে। এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের উত্তর দিকের সীমান্তে আট-নয় দিন ধরে বড় ধরনের কোনো বিস্ফোরণ বা সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘাত এখন রাখাইনের মংডু শহরের দিকে অগ্রসর হয়েছে। এতে বাংলাদেশ সীমান্তে গোলাগুলি কমে এসেছে। সীমান্তের বেশিরভাগ বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) চৌকি বিদ্রোহীরা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুস সালাম বলেন, কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি হচ্ছে। পাশাপাশি এতে বিকট শব্দে কেঁপে উঠছিল টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা। সোমবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতির পর্যন্ত গোলাগুলি বা বিকট বিস্ফোরণ শোনা যায়নি। ওপারের সংঘাতময় পরিস্থিতি প্রভাব ফেলেছিল এপারের বাসিন্দাদের জীবনে। 

সাবরাং নয়াপাড়ার বাসিন্দা সৈয়দ আলম ও শাহপরীর দ্বীপ বাজারপাড়ার আবদুল জলিল বলেন, কয়েকদিন টেকনাফ সীমান্তের মানুষের ঘুম ভেঙেছে বিকট শব্দে। এপারের মাটি কেঁপে উঠেছে। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের যেমন-তেমন, ভয় পেয়ে শিশুদের ঘুম ভেঙেছে। কিন্তু গত তিন রাত শান্তিতে ঘুমিয়েছে লোকজন।

স্থানীয় লোকজন বলেন, টেকনাফ সীমান্তের উত্তরাংশে হোয়াইক্য এবং পূর্ব ও দক্ষিণাংশে সাবরাংয়ের বিপরীতে নাফ নদের ওপারে রাখাইন রাজ্য। কয়েকদিন ধরে সেখান থেকে গুলির শব্দ আসছিল। স্থানীয় লোকজনের ধারণা, রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের পাশের বলিবাজার, মেগিচং, কাদিরবিল, নুরুল্লাহপাড়া, মাংগালা, নলবন্ন্যা, ফাদংচা ও হাসুরাতা এলাকায় সেদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর লড়াই চলছে।

এদিকে মিয়ানমারে সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় নাফ নদ এলাকায় টহল জোরদার করেছে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড। নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে। স্থলভাগেও পুলিশের টহল ও চারটি বিশেষ দল কাজ করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন কেউ অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আদনান চৌধুরী বলেন, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ সময়ে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে বসবাসরত মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

৯ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ চেষ্টা রুখল বিজিবি

সীমান্ত শান্ত থাকলেও মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা বন্ধ হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটের নাফ নদের মোহনায় একটি নৌকাযোগে ৯ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। বিজিবি সদস্যরা অনুপ্রবেশ রুখে দেন। ফলে মিয়ানমারে ফেরত গেছে এসব রোহিঙ্গা।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে একটি নৌকায় করে নয়জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। তারা বিজিবির বাধায় ঢুকতে পারেনি। পরে মিয়ানমারে ফেরত গেছে।

বিজিবির টেকনাফস্থ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গত সোমবার দিনভর থেমে থেমে বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ ভেসে এলেও সেদিন সন্ধ্যার পর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এমন শব্দ আর শোনা যায়নি। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (গতকাল) সকালে নৌকায় ৯ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। বিজিবি সতর্ক থাকায় এরা অনুপ্রবেশ করতে পারেনি। নাফ নদের শূন্যরেখা পর্যন্ত এসে এসব রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছে। 

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে সিত্তওয়ে

মিয়ানমারের সামরিক জান্তাবিরোধী বিদ্রোহী পক্ষ এএ রাখাইনের রাজধানী সমুদ্র উপকূলীয় শহর সিত্তওয়ে দখলের চেষ্টায় রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে শহরটিতে শুরু হতে পারে জান্তা ও বিরোধীদের যুদ্ধ। তবে মিয়ানমারের সংবাদ মাধ্যমগুলোর ভাষ্য, সিত্তওয়ে থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে পিছু হটতে শুরু করেছে।

এদিকে দুইপক্ষের যুদ্ধের আশঙ্কায় শহর ছাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। 

আরাকান আর্মি অনেক জান্তা ঘাঁটি এবং সীমান্ত ফাঁড়িসহ দক্ষিণ চিন রাজ্যের ম্রাউক-উ, মিনবিয়া, কিউকতাও ও পাউকতাও শহর এবং পালেতোয়া দখল করেছে।

তারা রাথেদাউং শহরে আক্রমণের পর সিত্তওয়েতে আঞ্চলিক অপারেশন কমান্ডকে আত্মসমর্পণের জন্য বলেছে। যদিও শহরে বিদ্রোহী সৈন্যদের অগ্রগতি রোধ করতে মিয়ানমার সেনারা ইয়াঙ্গুন-সিত্তওয়ে সড়কে একটি সেতু উড়িয়ে দিয়েছে কয়েকদিন আগে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সিত্তওয়ে ত্যাগ করেছেন।

উত্তর রাখাইন রাজ্যের পালেতোয়া, কিয়াউকতাও, মিনবিয়া এবং মরাউক-উসহ অধিকাংশ এলাকা বিদ্রোহীদের দখলে এসেছে। সিত্তওয়ে দখল করতে পারলে এ অঞ্চলে সেনাশাসকদের বড় পরাজয় ঘটবে। যুদ্ধ ঘনিয়ে আসছে বলে সিত্তওয়ের অর্ধেক নাগরিক ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে চলে গেছে। বাকিরাও ছাড়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে সিত্তওয়ের জীবন-যাপন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। ব্যবসা ও যোগাযোগ সবই প্রায় বন্ধ বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা