সুলতানগঞ্জ-মায়া নৌ রুট
রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:৫৭ পিএম
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২২:৪৮ পিএম
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ ঘাট থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের পদ্মার চরে ভাসছে বলগেট। প্রবা ফটো
চলতি মাসে দ্বার খোলা সুলতানগঞ্জ-মায়া আন্তর্জাতিক নৌ রুটে চিপস পাথর (ঢালাই দেওয়ার পাথর) বোঝাই বাংলাদেশের একটি বলগেট আটকা রয়েছে। ১৮৩ টন পাথর নিয়ে ভারতের মায়া নৌবন্দর থেকে ছেড়ে আসা বলগেটটি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ ঘাট থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের পদ্মার চরে আটকা পড়ে। ছয় দিন পার হলেও সেটি উদ্ধারে এখনও তৎপরতা শুরু হয়নি। এদিকে বলগেটটি আটকে পড়ার পর এই নৌ রুট দিয়ে আপাতত কেউ পণ্য আমদানি-রপ্তানি করছে না।
আমদানিকারক জানিয়েছেন, বলগেটটি সরিয়ে আনতে অথবা অন্য যান নিয়ে মালামাল খালাস করতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানিকারক নব্য সংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করায় এমনটা হতে পারে। তবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, মেঘনা ট্রেডার্সের মাধ্যমে ১৮৩ টন ভারতীয় চিপস পাথর আমদানি করেন মো. মনিরুজ্জামান। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দর থেকে পাথর বোঝাই করে বলগেটটি রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু সুলতানগঞ্জ ঘাট থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ সীমান্তে পদ্মার হাকিমপুর চরে এসে সেটি আটকে যায়।
মনিরুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সুলতানগঞ্জ-মায়া নৌ রুটের মধ্যে ২০০ মিটারের মতো একটি জায়গা আছে। সেখানে পণ্যবোঝাই জলযান যাতায়াতের জন্য নদীর গভীরতা তুলনামূলক কম। গ্রীষ্ম মৌসুমে এই রুটে নদীতে পানি কমে যায়। যদি ড্রেজিং করা হয় তবে এই সমস্যা থাকবে না।’
বলগেটটি আটকে থাকায় আর্থিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৮৩ টন চিপস পাথর আছে। ডিউটি ফিসহ অন্যান্য খরচ বাবদ যার আমদানি ব্যয় ৮ লাখ টাকা। প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, যা বলগেটকে ভাড়া বাবদ দিতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে ব্যাংক ইন্টারেস্ট গুনতে হচ্ছে। এখন কাস্টমস যদি অনুমতি দেয় আরও একটি বলগেট পাঠিয়ে সিলগালা করা পাথর কমিয়ে আটকে পড়া বলগেটটি উদ্ধার করা সম্ভব।’
বলগেটটি উদ্ধারে গতকাল রবিবার মেঘনা ট্রেডার্স কর্তৃপক্ষ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছে। তাদের আবেদন- বলগেটটি যেহেতু দেশের সীমানায় রয়েছে সেহেতু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে তারা অন্য জলযান পাঠিয়ে পাথর কমিয়ে দুটিতে করে সেগুলো আনবেন। এজন্য সহযোগিতা চান তারা।
বাংলাদেশ ও ভারতের নৌ প্রটোকলের আওতায় চলতি জানুয়ারির ১২ তারিখে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ ও ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দর চালু হয়। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের দিন সুলতানগঞ্জ থেকে প্রায় ১২ টন গার্মেন্টস ঝুট ভারতে যায়। আর প্রতিবেশী দেশটি থেকে আসে প্রায় ১০০ টন পাথর। ছয় দিন আগে চিপস পাথর নিয়ে বলগেটটি আটকা পড়ার পর নাব্য সংকটের কারণে এখন আপাতত এই পথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করছে না কেউ।
আমদানিকারক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সড়ক পথে বন্দরের পরিবর্তে এই নৌবন্দর দিয়ে পাথর আমদানিতে প্রায় ২০ দিন সময় কম লাগে। একজন ব্যবসায়ী এলসি খোলার পরের দিনই এই নৌবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি করতে পারেন। সেই সঙ্গে সাশ্রয় হচ্ছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়ক পথের খরচ।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ভারতীয় পাথরের চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা এই রুটের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে নাব্য সংকট থাকলে এই রুট থেকে আমদানিকারকেরা মুখ ফিরিয়ে নিবে। সরকার না করে দিলে আমাদের বললেও আমরা ড্রেজিং করে নিব। একোমডেশন ঠিক করা গেলে প্রতিদিন একটি বলগেটে করে এই নৌরুটে ৫০০ টন পাথর আমদানি করা সম্ভব।’
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর ক্রয় ও সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক মু. রফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এই নৌ রুটের একটি অংশে সামান্য নাব্য তথা পলিমাটিজনিত সমস্যা রয়েছে। আমাদের নির্দেশনা রয়েছে যাতে নৌযানে সাড়ে পাঁচ ফিট (ড্রাফট) গভীরতা নিয়ে মালামাল পরিবহন করা হয়। আমদানিকারক সম্ভবত ওই নির্দেশনা অমান্য করেছে। যে কারণে তাদের পণ্যবোঝাই জলযানটি আটকে গেছে। তবে বিষয়টি আমরা দেখছি।’