চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৪:৪৬ পিএম
মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। প্রবা ফটো
ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলনা বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
তিনি বলেন, মুখের ভাষায় কথা বলা একটি জন্মগত অধিকার। আর ভাষা আন্দোলন ছিল বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের চূড়ান্ত লড়াই-সংগ্রাম। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় এই লড়াইয়ে বাঙালি জিতলেও বিগত ৬৮ বছর পরও সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষার প্রচলন হয়নি। এটা আমাদের জাতিগত হীনমন্যতা ও বিকৃত মানসিকতার একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া।
মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, যেসব দেশ উন্নত ও অগ্রসর সেদেশের মানুষ রাষ্ট্র সমাজ নিজেদের মাতৃভাষা এবং দেশীয় রীতিনীতি ও আইনকানুনকে মর্যাদা দেয় ও মেনে চলে। একারণে তারা পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে। তাই এই কারণে আমাদেরকেও আত্মমর্যাদাশীল হতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে যে অসাম্প্রদায়িক ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চেতনার বীজ রোপিত হয় তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এই বাংলাদেশ সারা বিশ্বের মুক্তিকামী জনতার প্রেরণার উৎস এবং মুক্তিকামী মানুষের স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষার ঠিকানা।
মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, দ্বীজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক ও অবৈজ্ঞানিক ধারণায় প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান কায়েম হবার পরপরই বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠি হিংস্র থাবা দেয়। তখনই বঙ্গবন্ধু বুঝে গিয়েছিলেন পাকিস্তানি রাষ্ট্র কাঠামোয় কখনো দেশের সংখ্যাঘরিষ্ঠ মানুষ বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তখন থেকেই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নজাল রচনা করতে থাকেন এবং বহু প্রতিকূলতার মধ্যে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে যে স্বাধীনতা তিনি এনে দেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য নোমান আল মাহমুদের সঞ্চালনায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আরও সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এ কে এম বেলায়েত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, তথ্য গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।