রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৭:৪২ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:৪৪ পিএম
রাজশাহীতে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করে কাজ করছে আইইডিসিআর। সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। প্রবা ফটো
রাজশাহীতে চার দিনের ব্যবধানে মৃত্যু হওয়া দুই বোন দুই বছর বয়সি মুনতাহা মারিশা ও পাঁচ বছর বয়সি মুফতাউল মাশিয়া নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি– নিশ্চিত হওয়ার পর অন্য কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে তাদের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন চিকিৎসকরা। এজন্য রাজশাহীতে গিয়ে কাজ করছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল।
সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহমেদ জানান, দুই শিশুর মা-বাবাকে হাসপাতালের আলাদা ওয়ার্ডে সঙ্গনিরোধে (কোয়ারেন্টাইন) রাখা হয়েছে। আইইডিসিআরের প্রতিনিধিরা তাদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
আইইডিসিআরের প্রতিনিধিদলে আছেন দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও একজন সিনিয়র টেকনোলজিস্ট। তারা নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পাশাপাশি পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
আইইডিসিআর প্রতিনিধিদলের সদস্য ডা. প্রিন্স বলেন, ‘মৃত দুই শিশুর পরিপাকতন্ত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মা-বাবার রক্তের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। নমুনা পরীক্ষা ও আনুষঙ্গিক বিষয় পর্যবেক্ষণের প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুই শিশুর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’
রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মনজুর রহমান ও পলি খাতুন দম্পতির দুই মেয়ে পাঁচ বছরের মুফতাউল মাশিয়া ও দুই বছরের মুনতাহা মারিশা। ১৩ ফেব্রুয়ারি বাগানের বরই খেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। জ্বর ও বমির পাশাপাশি শরীরে কালো কালো ছোপের দাগ দেখা দেয়। এদের মধ্যে ছোট মেয়ে মারিশা ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বেসরকারি হাসপাতাল সিএমএইচ থেকে রামেক হাসপাতালে আনার পথে মায়ের কোলেই মারা যায়।
এরপর রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকালে মারা যায় বড় মেয়ে মুফতাউল মাশিয়া। এ ঘটনার পর বাবা-মা দুজনকেই পর্যবেক্ষণের জন্য রামেক হাসপাতালে ৩০নং ওয়ার্ডের নিপাহ আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়।
রামেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, দুই বোনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তাদের মা-বাবাসহ মৃত বড় মেয়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শনিবার তা ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। রবিবার বিকালে ঢাকা থেকে রিপোর্ট এসেছে। রিপোর্টে নিপাহ ভাইরাসের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
এই চিকিৎসক জানান, দুই শিশুর মৃত্যুর পর তাদের বাবা-মাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য। বাচ্চার মা জ্বরে আক্রান্ত। সোমবার পর্যন্ত তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবারের বরাত দিয়ে এই চিকিৎসক জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারি বাড়ির বাগান থেকে কাজের মেয়ে বরই কুড়িয়ে এনে মাশিয়া ও মারিশাকে খেতে দেয়। তারা বরই না ধুয়েই খায়। পরে মারিশার জ্বর ও বমি শুরু হয়। দ্রুতই তাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরে সেখান থেকে রাজশাহী নগরীর সিএমএইচে আনা হয়।
রাতে মাশিয়ারও পুরো শরীরে ছোপ ছোপ ছোট কালো দাগ উঠতে শুরু করে। তা দেখে সিএমএইচের চিকিৎসকরা মাশিয়াকে রামেক হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় তাকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিক আইসিইউতে ভর্তি করেন। প্রথমে ছোট বোন মারিশা ও চার দিন পর বড় বোন মাশিয়া মারা যায়। গরম তেল শরীরে পড়লে যে ধরনের দাগ হয়, বাচ্চাদের শরীরে অনেকটা সে রকমের দাগ পড়েছিল। অসুস্থ হওয়ার পরে দুই বোনই বারবার পানি খেতে চাচ্ছিল।