মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:৩১ পিএম
বাতাসন হযরতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রবা ফটো
রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রধান শিক্ষক ঘুসি মেরে সহকারী শিক্ষকের নাক ফাটিয়েছেন।
রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের বাতাসন হযরতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই শিক্ষককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শিক্ষক হারুনুর রশিদ জানান, তিনি শ্রেণীকক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণীর ক্লাশ শেষ করে বিদ্যালয়ের সভাপতি লুৎফুন নাহার রত্নার সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর উন্নয়ন সম্পর্কে কথা বলছিলেন। সেসময় তিনি প্রধান শিক্ষক তারিকুজ্জামান (বাবু) স্কুল সংস্কার না করে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করেন। এসময় তারিকুজ্জামান বাবুর সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। সভাপতি তাদের শান্ত করে চলে যাওয়ার পর তারিকুজ্জামান তার সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং নাকে আকস্মিক ঘুসি মারেন। এতে তার নাক ফেটে গিয়ে রক্ত বের হয়।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম আর স্বজনপ্রীতির কারণে বিদ্যালয়ে সেরকম পাঠদান হয় না। বিদ্যালয়টির সভাপতি প্রধান শিক্ষকের নিজের বোন হওয়ায় প্রধান শিক্ষক বাবু নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করেন। সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার পরেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক-কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ে বরাদ্দের ফ্যান, পানির ট্যাংক, পাইপ বাসায় নিয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক তার বাসায় ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় রায়হান কবির বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতি বিদ্যালয়টিতে ভুয়া অফিস সহায়ক নিয়োগ (পদের) জন্য মোসরেকুল ইসলাম নামে একজনের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভুক্তভোগী মোসরেকুল টাকা ফেরত চাইলে প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতি দুই ভাইবোন মিলে নানা রকম ভয়ভীতি দেখান।’
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তারিকুজ্জামান বাবু তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘হারুনুর রশিদ নিয়মিত ক্লাস নেয়না। ঘনঘন ছুটির জন্য আবেদন করে। বাকবিতণ্ডা থেকে একটু সমস্যা হয়েছে। তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
বাতাসন হযরতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি লুৎফুন নাহার রত্না বলেন, ‘বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে। আলোচনা করে সমাধান করা হবে।’
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’