সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২২ ১৫:১৩ পিএম
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২২ ১৬:৩৪ পিএম
গোখাদ্য। ফাইল ছবি
সিরাজগঞ্জে টানা তিন সপ্তাহ ধরে গোখাদ্য ভুসির দাম বেড়েই চলেছে। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে তা বেড়েছে ৪৫০ টাকা। ৩৭ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ভুসি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে এর দর ছিল ১ হাজার ৬৫০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে গমের জোগান কম। বাইরে থেকে ভুসি আনতে হচ্ছে। কেউ কেউ ভুসি মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। এ কারণে দাম বাড়ছে। আর জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলা দুগ্ধ খামারের জন্য পরিচিত। প্রতিদিন এসব এলাকা থেকে প্রাণ, মিল্কভিটাসহ দেশের বিভিন্ন কোম্পানি দুধ সংগ্রহ করে। বর্তমানে জেলায় সমবায়ভিত্তিক ১৫ হাজার ৩৮০টি গো-খামার রয়েছে। এসব খামারে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ গবাদি পশু আছে। এখান থেকে প্রতিদিন ২০ লাখ ৫০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। কিন্তু হঠাৎ করে গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গবাদি পশু পালন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা।
হঠাৎ দামের ঊর্ধ্বগতিতে হতাশা প্রকাশ করেন উল্লাপাড়া উপজেলার লাহেরী মোহনপুর ইউনিয়নের চরধানগাচ্ছা গ্রামের খামারি সোহেল রানা। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে ৩৭ কেজি ওজনের এক বস্তা ভুসির দাম ছিল ১ হাজার ৪৫০ টাকা। পরের সপ্তাহে দাম বেড়ে হয় ১ হাজার ৬৫০ টাকা। আর এখন কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ১৫০ টাকায়। এটা কেমন কথা! সরকার কি এগুলো দেখে না? রাতারাতি কীভাবে এত দাম বৃদ্ধি হয়?’
একই এলাকার খামারি এমান আলী বলেন, ‘আমার চারটি গরু আছে। আমরা সমবায় সমিতির মাধ্যমে প্রাণ কোম্পানিতে গরুর দুধ বিক্রি করি। ভুসির বস্তা ১ হাজার ২০০ টাকা থাকাকালে দুধের দাম ছিল ৪৩ টাকা। পরে বস্তা ১ হাজার ৪০০ টাকা হলে ৪৫ টাকা কেজি দরে দুধ বিক্রি করি। অথচ এখন এক বস্তাই কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকায়। কিন্তু আগের দামেই দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। এভাবে চললে খামার বিক্রি করে দিতে হবে।’
বাড়তি দামে গরুকে ভুসি খাওয়ানোই কমিয়ে দিয়েছেন শাহজাদপুর উপজেলার রেশমবাড়ী এলাকার খামারি নূরনবী। তিনি বলেন, ‘আমার আটটি গরু আছে। এক বস্তা ভুসি আগে চার দিন খাওয়াতাম। কিন্তু দাম বাড়ায় এখন এক বস্তা খাওয়াচ্ছি সাত-আট দিন। খইল, খড়ের দামও বেড়েছে। তাই গরুকে খাবার খাওয়ানোও কমিয়ে দিয়েছি।’
গরুর খাবার কমিয়ে দেওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে দুধ উৎপাদনেও। তার বর্ণনায়, ‘আগে একটি গাভি থেকে দুধ পেতাম ১০-১২ কেজি। এখন পাচ্ছি ৬-৭ কেজি। খাবার কম দেওয়ায় গরুর পুষ্টি কম হচ্ছে, নানান রোগও দেখা দিচ্ছে।’
বাজারে হঠাৎ গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য পাইকারি ব্যবসায়ীদের দোষারোপ করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, পাইকারি বাজারে ভুসি আছে, কিন্তু কিনতে গেলে দাম বেশি। যে কারণে খুচরা বাজারেও বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।
ভুসির পাইকারি ব্যবসা করেন সিরাজগঞ্জের মেসার্স মামুন মেডিকেল স্টোরের মালিক আবদুল্লাহ আল মামুন। তার দাবি, একশ্রেণির ব্যবসায়ী গোখাদ্য মজুদ করছেন। শুধু তারা নয়, ক্রেতারাও মজুদ করছেন। যে কারণে বাজার অস্থির।
জেলা ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান রনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জেলায় গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে পেরেছি। কামারখন্দ উপজেলা ও ভদ্রগাট ইউনিয়নে দুটি দেকানে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি।
আমাদের লোকবল কম। যে কারণে সব উপজেলায় অভিযান চালাতে পারছি না। তবে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।’