× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রীর দাবি

সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে ২৭ বছর পর বিচ্ছেদ

গাইবান্ধা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৬:৫০ পিএম

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৬:৫৭ পিএম

রবিবারে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাহাফুজা আক্তার। প্রবা ফটো

রবিবারে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাহাফুজা আক্তার। প্রবা ফটো

প্রায় ২৭ বছর আগে আনসার বাহিনীতে চাকরির সুবাদে ফিরোজ আহমেদ ও মাহাফুজা আক্তারের পরিচয় হয়। এরপর পারিবারিকভাবে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে আলো হয়ে আসে এক ছেলে ও এক মেয়ে। তবে শুরু থেকেই সন্তানদের বেড়ে ওঠা ও খোঁজখবর নেওয়ার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ ছিল না ফিরোজের। সংসারেও মন ছিলনা তার। নেশা ছিল শুধু টাকার। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীর বেতনও নিয়েছিলেন নিজের কবজায়। কৌশলে ব্যাংক থেকে স্ত্রীর নামে নেন মোটা অঙ্কের ঋণ। ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে রেখে দেন নিজের কাছে। তবে তখনও স্বামীর মূল অভিসন্ধি বুঝতে পারেননি মাহাফুজা। এরপর বাড়িসহ সব সম্পতি নিজের করে নিয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা দেন ফিরোজ। সর্বশেষ ২৭ বছরের ছলচাতুরির সংসার শেষে চলতি মাসের ১১ ফেব্রুয়ারি পাঠিয়ে দেন তালাকনামা। 

রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রেসক্লাব গাইবান্ধা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন মাহাফুজা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বামীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। তবে সব অভিযোগ নাকচ করেছেন ফিরোজ আহমেদ। 

মাহাফুজা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী এতবড় প্রতারণা করবে আমাার কল্পনাতেও ছিল না। ২৭ বছরের সংসার জীবনে সব গ্লানি মুখ বুজে সহ্য করেছিলাম। কিন্তু এতে আমার শেষ রক্ষা হলো না। অবশেষে তালাক জুটল কপালে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে আমার স্বামী সন্তানের চিকিৎসা ও ঋণ পরিশোধের কথা বলে আমার কাছে দুটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নেন। পরে আমার বিশ্বাস ভঙ্গ করে গত বছর জানুয়ারিতে তার ছোট ভাই রাশেদুল ইসলামকে দিয়ে প্রথমে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং রাজ্জাক মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার চেক ডিজঅনার মামলা দেন। এখানেই শেষ নয়, আমার নামে আনসার-ভিডিপি ব্যাংক হতে ৬ লাখ টাকা ঋণ তুলে নেয়। যা এখন আমি নিজেই পরিশোধ করছি। আমার চাকরি জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে তৈরিকৃত বাড়ি ও সমস্ত সম্পতি লিখে নিয়ে উচ্ছেদ মামলা করেছেন। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্নসহ সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি আমাকে তালাক দেন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমার স্বামী বান্দরবান জেলায় আনসার ব্যাটালিয়ানে কর্মরত। তিনি আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করে আমাকে ও আমার সন্তানদের পথে বসিয়েছেন। সারা জীবনের অর্জিত সম্পদ হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন প্রতারণার বিষয়ে আমি আদালতে একটি মামলা করেছি। কিন্তু সে মামলার তেমন অগ্রগতি নেই। আমি আপনাদের মাধ্যমে এই ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি। মানুষরূপি প্রতারক ফিরোজ আহমেদ আঙ্গুরের বিরুদ্ধে আইন ব্যবস্থা গ্রহণ করে আমার ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রীর করা অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করেছেন ফিরোজ আহমেদ।

তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। আমাকে ফাঁসাতে এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা