রফিকুল ইসলাম সান, বেড়া-সাঁথিয়া (পাবনা)
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:৩১ এএম
চোরের ভয়ে পেঁয়াজের ক্ষেতের পাশে বসানো হয়েছে ছাউনি। রাতের বেলা কৃষকরা দল বেঁধে সেখানে থেকে পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা দেন। প্রবা ফটো
পেঁয়াজের ভান্ডার পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়ায় গত বছর পেঁয়াজ চাষে লোকসান হওয়ায় চলতি বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভালো দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরা। তবে শঙ্কার কথা হলো, রাত হলেই পেঁয়াজক্ষেতে বাড়ছে চোরের উপদ্রব। ক্ষেত থেকেই চুরি হয়ে যাচ্ছে পেঁয়াজ। ফলে আতঙ্কে রয়েছেন কৃষকরা।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সাধারণ ক্রেতারা মনে করছেন, ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের এমন দাম অনেকটাই অস্বাভাবিক। আর এই অস্বাভাবিক দামের কারণে প্রতি রাতেই ক্ষেত থেকে চুরি হচ্ছে পেঁয়াজ। চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন অনেক চাষি। কেউ কেউ চুরির ভয়ে পুষ্ট হওয়ার আগেই ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে ফেলছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বেড়া ও সাঁথিয়াÑ এই দুই উপজেলায় এবার ৩৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭০০ হেক্টরে আবাদ হয়েছে আগাম বা মুড়িকাটা জাতের পেঁয়াজ। বাকি সাড়ে ২০ হাজার হেক্টরে হালি জাতের পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছে। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে কৃষকরা মুড়িকাটা জাতের পেঁয়াজ ক্ষেত তুলে বিক্রি করছেন। এখনও ৪০০ হেক্টর জমির মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা বাকি। দেরিতে লাগানো হয়েছিল বলে এসব জমির পেঁয়াজ পুরোপুরি পুষ্ট হতে এখনও দুই সপ্তাহের মতো সময় লাগবে। এসব জমির পেঁয়াজেই নজর চোরদের।
বেড়া উপজেলার দমদমা এলাকার এক চাষি বলেন, প্রতিদিন ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ চুরি হচ্ছে। পাহারা দিয়েও চার থেকে পাঁচ মণ পেঁয়াজ চুরি হয়েছে গেল বুধবার রাতে। সাঁথিয়া উপজেলার ভাট সোনাতলা এলাকার কৃষক কালু মোল্লা জানালেন, এ বছর দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন তিনি। বাড়ি থেকে পেঁয়াজের ক্ষেত দূরে বিধায় সবসময় পাহারা দেওয়া সম্ভব হয় না, এই সুযোগে অর্ধেকের বেশি পেঁয়াজ চুরি গেছে ক্ষেত থেকে।
একই গ্রামের চাষি ময়লাল হোসেনকে দেখা যায় জমি থেকে পেঁয়াজ তুলে ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো। কিন্তু ভালো দামের কারণে পেঁয়াজ ক্ষেতে চোরের উৎপাত বেড়ে গেছে। কয়েক দিন রাতে পাহারা দিয়ে পুষ্ট হওয়ার আগেই জমির সব পেঁয়াজ তুলে নিয়েছি।
কৃষকরা জানান, মুড়িকাটা সব পেঁয়াজই বেশ বড় হয়েছে। দুই হাতে একসঙ্গে হালকা করে গাছ ধরে টান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১০ থেকে ১২টা পেঁয়াজ উঠে আসে। তাই সুযোগমতো দুই-তিন জন মিলে ২০ মিনিটের মধ্যে দুই-তিন মণ পেঁয়াজ তুলে বস্তায় ভরে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা।
সরেজমিন দুই উপজেলার বেশকিছু গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, চোরের ভয়ে পেঁয়াজের ক্ষেতের পাশে বসানো হয়েছে ছাউনি। রাতের বেলা কৃষকরা দল বেঁধে সেখানে থেকে পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা দেন। এ ছাড়া যেখানে পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানকার ক্ষেত থেকে পুষ্ট হওয়ার আগেই কৃষকরা পেঁয়াজ তুলে নিচ্ছেন। সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার গোস্বামী বলেন, এবার পেঁয়াজের ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। আর এ কারণেই কোনো কোনো স্থানে ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ চুরির ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে আমাদের তেমন কিছুই করার নেই। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও থানায় জানানো হবে।