× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

একুশে পদকপ্রাপ্ত জিয়াউল হক

মানুষ আসছে শুভেচ্ছা জানাতে, তিনি গেছেন দই বেচতে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৩:৩৬ পিএম

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৪:০৮ পিএম

চাপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর সেটশন বাজারে পথের পাশে বসে দই বিক্রি করেন জিয়াউল হক। প্রবা ফটো

চাপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর সেটশন বাজারে পথের পাশে বসে দই বিক্রি করেন জিয়াউল হক। প্রবা ফটো

৯০ বছরের মানুষটি একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষজন ফুলের তোড়া নিয়ে তার বাড়িতে আসতে থাকেন ধন্যবাদ জানাতে। কিন্তু কোথায় তিনি? ভোর না হতেই তিনি জীবিকার তাগিদে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছেন দই বেচতে।

অনন্য এই মানুষটিই জিয়াউল হক। বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার চামামুশরীভুজা গ্রামে। লেখাপড়া করেছেন মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। পরিবারে অভাব জেঁকে বসায় স্কুলের পথ আর মাড়ানো হয়নি। নেমে পড়েন দুধ-দই বিক্রির কাজে। তবে মনের মধ্যে থেকেই যায় স্কুলে না যাওয়ার আক্ষেপ। আর তাই পরিশ্রমের মজুরি থেকে এলাকার গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের কিনে দিতে শুরু করেন বইসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ। এভাবে শিক্ষার আলো ছড়ানোর আনন্দে জড়িয়ে পড়েন তিনি। গড়ে তোলেন ‘জিয়াউল হক সাধারণ পাঠাগার’। যেখানে রয়েছে বই আর বই। এই বইয়ের সংখ্যা ২০ হাজারের মতো। 

একুশে পদক পেয়েছেন, জিয়াউল হক এ খবর মঙ্গলবার বিকালেই জানতে পেরেছিলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব তাকে ফোন করে পদকের জন্য মনোনীত হওয়ার খবর জানান। তবে চাল কেনা ও বাজার করার মতো টাকা ছিল না বলে পরদিন বুধবার সকালে উঠেই তিনি চলে যান গোমস্তাপুর উপজেলা সদরের রহনপুর স্টেশন বাজারে দই বেচতে। এদিকে বাড়িতে ভিড় জমতেই থাকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর খোঁজখবর করে মানুষজন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, একটি ওষুধের দোকানের সামনে দই বিক্রিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন জিয়াউল হক। দুপুর ১২টার দিকে তিনি দই ও ক্ষীর বিক্রি করতে যান ইসলামী ব্যাংকের রহনপুর শাখায়। ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাকে দেখে চেয়ার ছেড়ে এসে দই, ক্ষীর কিনতে থাকেন। এসব বিক্রির কাজ শেষে অটোরিকশায় করে বাড়ির দিকে ফিরে চলেন তিনি। 

শুধু শিক্ষার আলো ছড়ানোই নয়, ঘরবাড়ি নির্মাণ থেকে শুরু করে এলাকার খাবার পানি সংকট নিরসনেও ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছেন জিয়াউল হক। সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি এবার একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আইরীন ফারজানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জিয়াউল হক ছাড়াও দেশের আরও বিশিষ্ট ২০ ব্যক্তি একুশে পদক পাচ্ছেন। এর আগে ২০২০ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক পেয়েছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃতী সন্তান প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ভাষাসংগ্রামী আ আ ম মেসবাহুল হক বাচ্চু ডাক্তার।

তৈয়ব আলী মোল্লা ও শরীফুন নেসার ছেলে জিয়াউল হকের জন্ম ১৯৩৮ সালে। ১৯৫৫ সালে তিনি পঞ্চম শ্রেণি পাস করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে গেলেও অর্থসংকটে তা সম্ভব হয়নি। বাবার পক্ষে সম্ভব হয়নি বই কেনার জন্য তাকে দেড় টাকা দেওয়া। এ সময় তিনি বাবার সংগ্রহ করা দুধ দিয়ে দই তৈরি করে ফেরি করে বিক্রি করতে থাকেন। একসময় পরিবারের প্রতিদিনের খরচ মিটিয়ে বাকি অর্থ দিয়ে সমাজসেবা করতে শুরু করেন। প্রতিদিন দই মাথায় নিয়ে সাইকেলে করে গ্রামে-গঞ্জে বিক্রি করেছেন। আর দই বিক্রির টাকা থেকে কিনতেন দুয়েকটি বই আর পত্র-পত্রিকা। ১৯৬৯ সাল থেকে তিনি তিল তিল করে গড়ে তোলেন ‘জিয়াউল হক সাধারণ পাঠাগার’। সব বই বাড়িতে রাখা সম্ভব হয় না বলে তিনি অনেক বই রেখেছেন পাশের মুশরীভুজা ইউসুফ আলী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠাগারে।

শুরুর দিকে জিয়াউল হক অভাবী মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করতেন। বর্ষ শেষে সেসব বই আবার ফেরত নিয়ে আসতেন। পরে স্থানীয় হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় পাঠ্যবই, পবিত্র কুরআন মাজিদ ও এতিমদের পোশাক, শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রাখেন। পবিত্র ঈদে দুস্থদের মধ্যে কাপড় বিতরণ করেন। গ্রামের ছিন্নমূল মানুষকে টিনের ঘরও তৈরি করে দেন। এতিমখানায় পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির খাসি কিনে দেন। এভাবেই তিনি সমাজসেবা করে আসছেন। তার তৈরি দইয়ের নামডাকও বেশ। 

দেশের খ্যাতিমান ব্যক্তি ও সংস্থা জিয়াউল হককে বই ও সেলফ দিয়ে সহায়তা করেছেন। শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী এই ব্যক্তি এর আগেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তার কর্মের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার একুশে পদক প্রাপ্তিতে আনন্দে ভাসছে ভোলাহাটসহ পুরো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। তাকে অনেকেই অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা