বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৬:৪৯ পিএম
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:৪২ পিএম
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির আট সদস্যকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। প্রবা ফটো
বাগেরহাটে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির আট সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ড. মো. আতিকুস সামাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন। একই সঙ্গে ছয় আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার কাকারবিল এলাকার আকাশ মোল্লা, পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মো. কবিরুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর সোনাখালি মিজানুর রহমান, রঘুনাথপুর গ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গড়েরকান্দা গ্রামের মো. মাকসুদুর রহমান, সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কাশেমপুর গ্রামের মো. মোরশেদ আলম, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ইটাগাছা গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাগেরহাট সদর উপজেলার নাটইখালী গ্রামের তরিকুল ইসলাম।
এদের মধ্যে আকাশ মোল্লা, মো. কবিরুল ও মিজানুর রহমানকে ৮ বছর, জহিরুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান ও মো. মোর্শেদ আলমকে পাঁচ বছর এবং মো. সাইফুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলামকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এদের মধ্যে মো. সাইফুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলাম ছাড়া অন্য সবাইকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইানজীবী (পিপি) মো. শহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সরকারবিরোধী নাশকতা সৃষ্টি ও হত্যার উদ্দেশ্যে একত্রিত হওয়ার মামলায় স্বাক্ষী প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এদের মধ্যে ছয়জনকে আর্থিক দণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর রাতে সরকারবিরোধী নাশকতা সৃষ্টি ও হত্যার উদ্দেশ্যে জেলার কচুয়া উপজেলার খলিশাখালী এলাকার সাফায়েত শেখের বাগানে পরিত্যক্ত টিনের ঘরে অবস্থান নেয় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্যরা। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযানে যায়। তখন জেএমবি সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে এবং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া করে পুলিশ চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পিস্তল, চারটি হাত বোমা, শর্টগানের গুলি, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, কম্পিউটারের হার্ডডিক্স ও সংগঠনটির জিহাদি বই জব্দ করে পুলিশ। পুলিশ তদন্ত শেষে আটজনকে অভিযুক্ত করে ২০১৭ সালের ১১ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলার ১৩ জনের স্বাক্ষীরা স্বাক্ষ্য শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।