মিয়ানমার গৃৃহযুদ্ধ
কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০০:৪৩ এএম
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:৪৮ এএম
ফাইল ছবি
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মানুষ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আতঙ্কে থাকলেও মঙ্গলবার রাত থেকে তারা কোনো গোলাবারুদ বিস্ফোরণের শব্দ শোনেননি বলে জানিয়েছেন। তবে রাঙামাটির ঘুমধুম, পালংখালী, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে আরকান আর্মির সদস্যদের অস্ত্র হাতে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন বলে তাদের ভাষ্য। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারি, ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জালাল আহমদ ও ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের নিকটবর্তী মিয়ানমারের বিজিপির যেসব ফাঁড়ি ছিল তা একে একে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে স্বাধীনতাকামী আরকান আর্মি। মিয়ানমার জান্তার সেনাসদস্যরা বাংলাদেশ বা মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে গেছেন। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত শান্ত হয়েছে। তবে নতুন করে যুদ্ধের আশংকা করছেন তারা।
মিয়ানমারের মংডু শহরের আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার একজন কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, মিয়ানমারের বিভিন্ন ফাঁড়ি বা স্টেশনে যেসব সেনা বা বিজিপি (মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী) সদস্যরা ছিলেন তারা স্বেচ্ছায় ফাঁড়ি ত্যাগ করে রাখাইনের রাজধানীতে সেনাসদর দপ্তরে অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে ওই দপ্তরটির চারপাশে দূরত্ব রেখে অবস্থান নিয়েছেন আরকান আর্মির সদস্যরা। অবস্থার প্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে যেকোনো সময় সেখানে যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
মংডু শহরের দলিয়াপাড়ার কয়েকজন রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার জন্য মংডু শহরের আশেপাশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা ও রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে আরকান আর্মি। তাদের উত্তরের দিকে পাহাড়ের পাশে রাখা হচ্ছে।
মিয়ানমারের ৩৩০ জনকে ফেরত আজ
যুদ্ধের মধ্যে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সেদেশের সীমান্তরক্ষীসহ ৩৩০ জনকে আজ বৃহস্পতিবার ফেরত পাঠানো হবে বলে বিজিবি জানিয়েছে। বিজিবির সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বর্তমানে তারা কক্সবাজারের টেকনাফ ও বান্দরবনের ঘুমধুমের দুটি স্কুলে রয়েছেন। সেখান থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে ইনানী সমুদ্র উপকূলে। কক্সবাজারের ইনানীতে বঙ্গোপসাগরের উপকূলের নৌবাহিনীর ঘাটে দুই দেশের প্রতিনিধিরাই থাকবেন। সেখান থেকে তাদের বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ কর্ণফুলীতে তোলা হবে। কর্ণফুলী যাবে বাংলাদেশের জলসীমায়। সেখানে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে দেওয়া হবে তাদের। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পুলিশ বিজিবিকে সহায়তা করছে বলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম জানিয়েছেন।
মিয়ানমারে ১২ সেনাসদস্য নিহত
যুদ্ধে মঙ্গলবার পর্যন্ত পূর্ববর্তী তিন দিনে মিয়ানমারের আরও অন্তত ১২ সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির জান্তাবিরোধী জনপ্রতিরক্ষা বাহিনী (পিডিএফ) ও নৃগোষ্ঠীর সশস্ত্র সংঘ (ইএও) এক যৌথ বিবৃতিতে এমন দাবি করেছে বলে মিয়ানমারের গণমাধ্য ইরাবতি জানিয়েছে।
তথ্যমতে, তিন দিনে রাখাইন রাজ্য, মান্দালে, ম্যাগওয়ে, সাগাইং ও তানিনথারি অঞ্চলে জান্তার বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক সংঘাত হয়েছে। তবে পিডিএফ ও ইএও দাবি আলাদা করে যাচাই করতে পারেনি ইরাবতি। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি রাখাইন রাজ্যে জান্তার একটি গানবোট ডুবিয়ে দেয় আরাকান আমি। তার আগে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি জান্তার তিনটি গানবোট ডুবিয়ে দিয়েছিল।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটির নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চিকে বন্দি করে ক্ষমতা দখল করে। এর কয়েক মাস পর থেকে শুরু হয় জান্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু। সম্প্রতি তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাখাই রাজ্যে আরাকান আর্মির হামলায় বেশ বিপাকে পড়েছে জান্তা।