শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:৪৪ পিএম
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০০:৪৭ এএম
প্রবেশ পত্র না পেয়ে বিদ্যালয় মাঠে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
শেরপুরের শ্রীবরদীতে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা দিতে পারছে না গবরীকুড়া আকন্দ কলম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় প্রবেশ পত্র না পেয়ে বিদ্যালয় মাঠে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। প্রবেশপত্র না পাওয়ায় বিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সংবাদ পেয়ে সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের কক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রশাসন।
বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রবেশপত্র না পাওয়ায় সন্ধ্যায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ করেছেন।
জানা গেছে, বুধবার সকালে গবরীকুড়া আকন্দ কলম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশ পত্র নিতে যান শিক্ষার্থীরা। এ সময় ১৪ জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র বোর্ড থেকে আসেনি বলে জানান বিদ্যালয় র্কতৃপক্ষ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী এসে প্রধান শিক্ষককে অবরোধ করে রাখেন।
ভুক্তভোগী বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা স্কুল থেকে চাহিদা অনুযায়ী যা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তাই দিয়েছি। আজ প্রবেশপত্র সংগ্রহের জন্য ২০০ টাকা আনতে বলা হয়েছে তাই নিয়ে এসেছি।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারা শিক্ষার্থী বিজলি আক্তার বলেন, যথাসময়ে ফরম পূরণ করেও প্রবেশপত্র পাইনি। শিক্ষকদের গাফিলতির কারণেই এমন হয়েছে। পরীক্ষা দিতে না পেরে আমার জীবন থেকে একটি বছর চলে গেল। এজন্য দায়ীদের বিচার দাবি করছি।
মো. ইব্রাহিম নামের এক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলের এসএসসি পরীক্ষার ফরম আমি নিজে গিয়ে পূরণ করেছি। কিন্তু পরীক্ষার প্রবেশপত্র না আসায় সে পরীক্ষা দিতে পারবে না। প্রধান শিক্ষকসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
অভিভাবক ওয়াহেদ আলী বলেন, আমার মেয়ের পরীক্ষার সকল পাওনাদি দিয়েছি। আমার মেয়ের প্রবেশপত্র আসেনি। আমি স্যারদের উপযুক্ত বিচার চাই।
গবরীকুড়া আকন্দ কলম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ফরম পূরণ ও রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব পালন করেছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক জুলফিকার হায়দার ও অফিস সহকারী সেলিম মিয়া। তারা আমাকে ৯৪ জনের কথা বলেছে। আমি নিজে গিয়ে গতকাল প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে আজ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছি। তবে, তারা সম্ভবত ফরম পূরণ করেনি। করলে অবশ্যই প্রবেশপত্র আসত। তাই তাদের প্রবেশপত্র না আসার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি আরও বলেন, আমি কোনো টাকা নিজ হাতে নেই না। এর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক আছে।
শ্রীবরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আলম তালুকদার বলেন, ১০ পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র না আসার অভিযোগ পেয়েছি। আমিসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফৌজিয়া নাজনীন ঘটনাস্থলের দিকে রওয়ানা হয়েছি। বিস্তারিত জেনে বলতে পারব।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফৌজিয়া নাজনীন বলেন, বিকেলে বিষয়টি জেনে দ্রুত সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেছি এবং জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। আশা করছি, জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বিষয়টির একটি সুন্দর সমাধান হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল খায়রুম বলেন, বিষয়টি আমি সন্ধ্যায় জানার পর ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যেসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনসহ সকল কাগজপত্রাদি সঠিক রয়েছে তাদের প্রবেশপত্র ইস্যু করা হবে। রাতেই ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান হবে এবং তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।