লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:০২ পিএম
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:০৬ পিএম
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সিভিল সার্জন ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ জনপ্রতিনিধিরা। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরে সুপারি ব্যবসায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না করার এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সুপারি ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইলে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না করার ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য আইনজীবী রাসেল মাহমুদ মান্না বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাইড্রোজেনসহ হলুদ ও কমলা রঙ দিয়ে ভেজা সুপারি বাজারজাত করতে হয়। এ নিয়ে একটি চক্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উপস্থাপন হয়। সভায় সুপারি ব্যবসার ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহানের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, সিভিল সার্জন আহাম্মদ কবীর ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমানসহ জনপ্রতিনিধিরা।
লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন আহাম্মদ কবীর বলেন, জেলা প্রশাসক ও কৃষি বিভাগের উপপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সূত্র জানিয়েছেন সুপারিতে দেওয়া রঙে তেমন কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। এতে নেতিবাচক কিছু পাওয়া যায়নি। এজন্য সুপারিতে রঙ দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়নি।
ব্যবসায়ীরা জানান, লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত সুপারিতে প্রতি বছর ১ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়। এ সুপারি কাঁচা, শুকনো ও ভিজিয়ে বাজারজাত করা হয়। সুপারি পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ওপরের অংশে ময়লা হয়ে স্যাঁতসেঁতে অবস্থা সৃষ্টি হয়। এতে বাজারজাত করতে সুপারির ওপরের অংশে হলুদ ও কমলা রঙ দিয়ে বাজারজাত করতে হয়। ভারত থেকে একইভাবে রঙ দেওয়া সুপারি আমাদের দেশে আমদানি করা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরাও একই প্রক্রিয়ায় সুপারি বাজারজাত করেন। কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। শুধুমাত্র লক্ষ্মীপুরেই একটি চক্র প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে সুপারি ব্যবসায়ীদের পুঁজি ধ্বংস করার চেষ্টা করে। সম্প্রতি একাধিক সুপারি ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।