গাইবান্ধা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৩৭ পিএম
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:১৭ পিএম
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় খনন করে ‘মধ্যযুগীয়’ রাজপ্রাসাদের সন্ধান মিলেছে। এ ছাড়া খননে বেরিয়ে আসছে ইটের তৈরি প্রাচীন অবকাঠামোসহ নানা ধরনের প্রত্ননিদর্শন। সম্প্রতি রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আট সদস্যের একটি দল উপজেলার ঐতিহাসিক বিরাট রাজার এলাকায় ঢিবি খনন করছে।
সম্প্রতি সরজমিনে খনন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ সংরক্ষিত ৫০ মিটার প্রস্থ, ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৪ মিটার উচ্চতার একটি ঢিবিতে খননকাজ চালাচ্ছে ৮ সদস্যের একটি দল। খননকাজ করছেন ২০ জন দক্ষ শ্রমিক। তারা ধীরে এবং অত্যন্ত যত্নে খননকাজ পরিচালনা করছেন। খননে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে পুরনো বিভিন্ন অবকাঠামোর নিদর্শন, যা মধ্যযুগ বা প্রাচীন যুগের হতে পারে বলে খননকারীদের ধারণা। সঠিক সময় এখনও জানতে পারেননি তারা।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এবং খননকারী দলের প্রধান ড. নাহিদ সুলতানা বলেন, খননে ধারণার চেয়ে বড় আকারের অবকাঠামো পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত এখানে পোড়ামাটির ভগ্নাংশ, পোড়ামাটির ফলক, অলংকৃত ইট (সাধারণত ধর্মীয় উপাসনালয়ের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত হয়), ভিত্তিপ্রস্তর, পিলার পাওয়া গেছে, যা প্রাচীনত্বের সাক্ষ্য বহন করে। তবে নিদর্শনগুলো ঠিক কোন সময়ের এবং কারা এখানে বাস করতেন বা কাদের রাজ্য ছিল, বড় আকারে খনন সম্পন্ন না হলে তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। নাহিদ সুলতানা বলেন, প্রত্নতত্ত্বস্থলটি ইতোমধ্যে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। তবে বড় পরিসরে খননকাজ করে জায়গাটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সেই সঙ্গে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

স্থানীয় জনশ্রুতি, এখানে প্রাচীন একটি দুর্গনগরী ছিল। এর নিরাপত্তার জন্য ছিল সু-উচ্চ প্রাচীর এবং প্রাচীরের বাইরে প্রশস্ত ও সুগভীর পরিখা। তবে খননকারী দল এখন পর্যন্ত প্রাচীন দুর্গনগরীর কোনো চিহ্ন খুঁজে পায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মূল অবকাঠামোর সঙ্গে আরও দুই-তিনটি মন্দিরের সংযোগ সড়ক ছিল, যা ধ্বংসপ্রাপ্ত।

আনুষ্ঠানিক খননকাজের পূর্বে এখানে ১৯৭৮ সালে পাওয়া যায় সংস্কৃত অক্ষরে খোদাই করে ‘নমঃ নমঃ বিরাট’ লেখা ৯ ইঞ্চি একটি শিলালিপি, যা বগুড়ার মহাস্থান জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া এখানে পাওয়া গেছে কৃষ্ণ রঙের শিলাপাথর দ্বারা তৈরি হস্তিমস্তক, যা রাজশাহী জাদুঘরে এবং সিংহদ্বারের একটি পাথরের খাম্বা মহাস্থান জাদুঘরে রয়েছে।