× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভোটের শেষে যে সেতুর কথা ভুলে যান প্রার্থীরা

ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৫:২৩ পিএম

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৫:২৫ পিএম

মৌলভীবাজার শহরের মনু নদীতে সেতু না থাকায় নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে মানুষ। প্রবা ফটো

মৌলভীবাজার শহরের মনু নদীতে সেতু না থাকায় নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে মানুষ। প্রবা ফটো

মৌলভীবাজার শহরের মনু নদীতে সেতু না থাকায় দুই পারের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। স্থানীয়রা চাঁদা তুলে নদীতে বাঁশের একটি সাঁকো তৈরি করে নিয়েছে। শুকনো মৌসুমে তারা এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করেন। প্রতিবছর চাঁদা তুলে সেটি মেরামতও করেন। বর্তমানে এ সাঁকোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আর বর্ষাকালে একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা। এখানে বছরের পরে বছর ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। কিন্তু সেতু আর হচ্ছে না। 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌলভীবাজার শহরের বুক চিরে প্রবাহিত প্রবল খরস্রোতা মনু নদী। এ নদীর দক্ষিণ পারে পৌর এলাকার সেন্ট্রাল রোড জেলা সদরের প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র। এ প্রান্তে রয়েছে সদরের বাজার, হাসপাতাল ও বাসস্ট্যান্ড। নদীর ওপারে উত্তরপ্রান্তে চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের সাবিয়া, বলিয়ারভাগ, মমরুজপুর, গুজারাই, বালিকান্দি, ঢেউপাশা, গদাধর ও আশিয়াÑ এ আট গ্রাম। শহর থেকে এই গ্রামগুলোকে পৃথক করেছে মনু নদী। এসব গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দার অর্ধেকের বেশি চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা কাজে প্রতিদিন নদীর এপারে জেলা সদরে আসা-যাওয়া করেন। 

তাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম উত্তরপ্রান্তের সাবিয়া ও দক্ষিণপ্রান্তের পৌর এলাকার সেন্ট্রাল রোডস্থ পশ্চিমবাজার আখড়াসংলগ্ন খেয়াঘাট। সেতু না থাকায় প্রতি বছরই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করলেও কোনো ফল হচ্ছে না।

ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (র.) সফরসঙ্গী হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র.) ইসলাম প্রচারের জন্য মৌলভীবাজার অঞ্চলে আসেন। পরবর্তীকালে হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফার (র.) ভ্রাতুষ্পুত্র হযরত ইয়াছিনের (র.) উত্তর পুরুষ মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে মনু নদীর তীরে জনসাধারণের সুবিধার্থে নিজস্ব মিরাসদারীভুক্ত জমির ওপর একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত বাজারটি মৌলভী সাহেবের বাজার নামে পরিচিতি লাভ করে, যা পরবর্তীকালে মৌলভীবাজার নামে নামকরণ হয়। তখন মনু নদীর দক্ষিণপ্রান্তের বাজারের সঙ্গে উত্তরপ্রান্তের ওই গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের সংযোগের জন্য শহরের কেন্দ্রস্থলে আখড়া ও সাবিয়া খেয়াঘাট প্রতিষ্ঠিত হয়। সে হিসেবেও শত শত বছরের পুরোনো এ খেয়াঘাট।

শহরের প্রবীণ বাসিন্দা সৈয়দ আতাউর রহমান বলেন, ‘এখানে সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসী বহু আবেদন-নিবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি। নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা এখানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন, পরে তা ভুলে যান। বর্তমান সরকারের সময় দেশে সড়ক যোগাযোগ উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বড় বড় সেতু নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মৌলভীবাজারে শহরের কেন্দ্রবিন্দুতেই একটি সেতুর জন্য মানুষের আর্তি যেন শোনার কেউ নেই।’

সাবিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মোবারক মিয়া বলেন, ‘ছোটবেলায় লেখাপড়া করতে হয়েছে বর্ষা মৌসুমে নৌকায় এবং অন্যান্য সময়ে বাঁশের সাঁকো পাড়ি দিয়ে পায়ে হেঁটে শহরে এসে। সে সময় থেকেই দেখে এসেছি এখানে ছোট-বড় কত দুর্ঘটনা ঘটে। কারণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় অনেকেই পা পিছলে নদীতে পড়ে যান। গত বছরও এখানে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগের বছরের ডিসেম্বরে সাঁকো থেকে পা পিছলে নদীতে পড়ে যান চন্দন রায় নামে এক বৃদ্ধ। এক দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ বছর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। আমরা তার কাছে এখানে সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানাই।’

মমরজপুর গ্রামের মোস্তফা মিয়া বলেন বলেন, ‘আমরা খুব কষ্ট করে যাতায়াত করছি। শত বছর ধরে আমাদের পূর্বপুরুষরাও একইভাবে কষ্ট করে গেছেন। রাতে কেউ অসুস্থ হলে সেই রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যায় না। হাসপাতালে নিতে নিতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। সেতু না থাকায় খুবই সমস্যা হচ্ছে।’ 

আশিয়া গ্রামের গৃহবধূ জান্নাত বেগম বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা ঠিক সময়ে স্কুলে যেতে পারে না। অনেক সময় খেয়া মেলে না। তাদের ক্লাসে ও পরীক্ষায় দেরি হয়ে যায়। এ ছাড়া সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয় প্রসূতি নারীদের নিয়ে। তাদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।’

মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘গত বছর এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরবর্তীকালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গার সয়েল টেস্ট করাসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এরপর আর কোনো অগ্রগতি নেই।’

জানতে চাইলে মৌলভীবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশ পরবর্তীকালে সয়েল টেস্টসহ নানা কার্যক্রম করে একটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রেরণ করি। কিন্তু প্রকল্পটি অনুমোদন হয়নি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা