কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৭:০৬ পিএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:০৩ পিএম
ঘুমধুম সীমান্তে বিওপিতে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বিজিপির কয়েকজন সদস্য। প্রবা ফটো
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বাহিনী ও স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীদের তুমুল লড়াইয়ের মধ্যে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) অন্তত ৫০ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। দুপুরে এ সংখ্যাটি জানা গিয়েছিল ১৪।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে বিওপিতে মিয়ানমারের বিজিপির ‘কয়েকজন’ সদস্য আশ্রয় নিয়েছেন- এমন বলা হলেও ৫০ জনের বিষয়টি নাম প্রকাশে কেউ নিশ্চিত করেননি।
জানা গেছে, বিজিপির এই ৫০ সদস্যের মধ্যে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত রয়েছেন আরও কয়েকজন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার-৩৪ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল আশরোকি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) রাত থেকে তুমুল যুদ্ধের মধ্যে কয়েকজন বিজিপি সদস্য প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের ঘুমধুম সীমান্ত বিওপিতে রাখা হয়েছে।
বিজিপি সদস্যদের অস্ত্র ও গুলি বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) কাছে জমা রাখা আছে বলেও জানান তিনি। বিজিবিরএই কমান্ডিং অফিসার বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল শনিবার বিকাল থেকে ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। সেই গোলাগুলির মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি গুলি অটোরিকশায় এসে লাগে। এতে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও অটোরিকশার সামনের গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর রাতে বাড়ে লড়াইয়ের তীব্রতা। আজ ভোর রাত থেকে লাগাতার গোলাগুলি, মর্টার শেল নিক্ষেপ ও রকেট লান্সার বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে সীমান্তবর্তী ঘুমধুম-তুমব্রুর বিস্তীর্ণ এলাকা।
গতকাল রাতে এই তুমুল সংঘর্ষের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে রকেট লান্সার এসে পড়েছে। এ ছাড়া ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষের ঘটনায় গোলা এসে পড়লে বাইশফাঁড়ি এলাকায় নুরুল কবীরের বাড়িতে আগুন ধরে যায়।
এরই মধ্যে আজ সকালে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে সীমান্তে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তার ডান হাতে গুলি লেগেছে। সকাল ১০টার দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ প্রবীর চন্দ্র ধর ঘুমধুম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তুমব্রু হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা।

এদিকে মিয়ানমারের এই চলমান সংঘাতে স্বাধীনতাকামী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগ দিয়েছে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশনের (আরএসও) যোদ্ধারাও। ফলে দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে লড়াই তীব্রতর ও ত্রিমুখী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের সীমান্ত ফাঁড়িকে ঘিরে ত্রিমুখি লড়াই দেখা যাচ্ছে। বিজিপির এসব ফাঁড়ির চারপাশ থেকে হামলা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তজুড়ে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আজিজ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পরিস্থিতি বুঝা যাচ্ছে লড়াই তীব্র হচ্ছে। যেখানে ত্রিমুখী লড়াই হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সীমান্ত এলাকার লোকজন বলছেন, মিয়ানমারের সংঘাত এখন নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম-তুম্রু সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি এলাকায় চলে এসেছে। খালি চোখে সীমান্তের ওপারের অনেক কিছুই দেখা যাচ্ছে। যেখানে এতোদিন আরকান আর্মির পোশাক পরিহিতদের লড়াই করতে দেখা গেছে, শনিবার ফের লড়াই শুরুর পর সেখানে আরএসও-এর পোশাক পরিহিতদেরও অস্ত্র হাতে দেখা যাচ্ছে; তা অনেকটা পরিস্কার।