মিয়ানমারের সংঘাত
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:০৩ পিএম
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:৩৯ পিএম
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি। প্রবা ফটো
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। তবে বুধবার দিনগত রাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাতে আবারও বিস্ফোরণের শঙ্কায় আতঙ্কে আছে সীমান্ত এলাকার মানুষ।
তারা জানিয়েছে, স্বাভাবিকভাবে দিনে গোলাগুলি বা মর্টার শেলের শব্দ শোনা না গেলেও প্রায়ই রাতে শব্দ শোনা যায়। তবে গত কয়েক দিনে ঘুমধুম, তুমব্রু, উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের ওপারে দিনে ও রাতে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে এবং এপারে গুলি ও মর্টার শেল এসে পড়েছে। আজ সকাল থেকে বিস্ফোরণের কোনো শব্দ শোনা যায়নি।
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘পালংখালীর আনজুমানপাড়া সীমান্তের কাছে মিয়ানমার ওপারে সে দেশের সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান গোলাগুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। সোম ও মঙ্গলবার দুটি হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। কানে এসেছে গুলি ও মর্টার শেল ছোড়ার শব্দ। স্থানীয়রা ভয়ে চিংড়ি ঘের ও জমিতে চাষাবাদে যেতে পারছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার কোনো ধরনের বোমা ও গুলির শব্দ শোনা যায়নি। সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে কোস্ট গার্ড, বিজিবিসহ স্থানীয় মানুষরা সর্তক রয়েছে।’
হোয়াইক্যং উলুবনিয়ার চাষি আব্দুস সালাম বলেন, ‘মিয়ানমারের সীমান্তের ওপারে এক সপ্তাহজুড়ে চলমান সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আমাদের জীবনে। মঙ্গলবার নুরুল ইসলামের বাড়িতে এসে পড়ল একটি গুলি। সে সঙ্গে সীমান্তের কাছে পড়ল মর্টার শেল। এসব কারণে আতঙ্কে আমরা চাষের জমিতে ও চিংড়ি ঘেরে যেতে পারছি না। তবে আজ গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি।’
হোয়াইক্যং ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জালাল আহমেদ বলেন, ‘উলুবনিয়া গ্রামে গুলি ও মর্টার শেল পড়ার কারণে সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসরত লোকজন ঠিকমতো চলাচল করতে ভয়ে পাচ্ছে। কারণ ওপারে গোলাগুলি হলে এপারের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। মনে হচ্ছে, এখানে যুদ্ধ চলছে।’
হ্নীলা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বুধবার দিনগত রাতে বোমা ও গুলির শব্দে এলাকার লোকজন আতঙ্কে ছিল। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টেকনাফ সীমান্তের কোথাও গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়নি।’
জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টেকনাফ সীমান্তের কোথাও গোলাগুলির শব্দে শুনতে পাওয়া যায়নি। সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘বুধবার দিনগত রাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তা নেই। আবার রাতে যেকোনো মুহূর্তে শব্দ হতে পারে। সীমান্তে আতঙ্ক রয়েছে।’
এর আগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।