পাবনায় মা-ছেলে হত্যা
পাবনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:৩৮ পিএম
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:০৯ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন খুন হওয়া লাবনী খাতুনের ভাই শাহাদত হোসেন। প্রবা ফটো
‘ওরা আমার বোনের গোটা সংসারকে শেষ করে দিয়েছে, আমার ভাগিনাকে এতিম করে দিয়েছে। এই খুনিরা যেন জামিন না পায়, তাদের ফাঁসির মাধ্যমে যেন মৃত্যু হয়। তাদের লাশ চাই, লাশ না হয়ে যেন তারা বাড়ি ফিরতে না পারে। আর তা না হলে আমাদেরই আপনারা গুলি করে মারবেন।’
পাবনার চাটমোহরে মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুর রশিদের স্ত্রী লাবনী খাতুন এবং তার ১০ বছরের শিশুর হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে এভাবেই আহাজারি করছিলেন খুন হওয়া লাবনীর বড় ভাই ও মামলার বাদী শাহাদত হোসেন।
গত শুক্রবার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নে দিঘুলিয়া গ্রামে গোয়ালঘর থেকে লাবনী খাতুনের ও গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার ছেলে শিশু রিয়াদ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হয়েছে দাবি করে আজ বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে জেলা পুলিশ।
পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাদী শাহাদত হোসেন, লাবনী খাতুনের ১২ বছরের মেয়ে, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন ও প্রতিবেশী উকিল মোল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে পাবনা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সীর বক্তব্যের শেষের দিকে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন শাহাদত হোসেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে
হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
শাহাদত বলেন, ‘আমার বোন আমাকে দেখেও ভয় পেত, কথা বলারও সাহস পেত না। সেই বোনকেও ওরা নির্মমভাবে হত্যা করল। আমার শিশু ভাগিনা কি অপরাধ করেছিল তারা এভাবে হত্যা করল? এর যদি কোনো বিচার না হয়, তারা (আসামি) যদি আবার জামিন পেয়ে এলাকায় ঘুরাঘুরি করে তাহলে আমাদের পরিবারের যতগুলো লোক আছে সবাইকে আপনারা গুলি করে মারবেন। এই হত্যাকাণ্ডেরও যদি বিচার না পাই তাহেল আমাদের বেঁচে থেকে কি লাভ?’
বোন ও ভাগ্নে হত্যায় জড়িতদের ফাঁসি চেয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ওরা যদি আবার ছাড়া পায়, আমাদেরই বেঁচে থাকার অধিকার নাই। এদের একমাত্র ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো কিছু যেন না হয়। আমি এদের ফাঁসি চাই, অন্য কোনো কিছু চাই না। এক সেকেন্ডের জন্যও এরা যেন জামিন না পায়, আমি তাদের লাশ চাই, তাদের ফাঁসির মাধ্যমে যেন মৃত্যু হয়, লাশ না হয়ে যেন তারা বাড়ি ফিরতে না পারে। আর তা না হলে আমাদেরই আপনারা গুলি করে মারবেন। ওদের ফাঁসি না হলে আমিদের বেঁচে থাকার অধিকার নাই।’
হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা জানালেন পুলিশ সুপার
পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী বলেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুর রশিদের স্ত্রী লাবনী খাতুন সম্প্রতি বাড়ি করার জন্য ইট কিনতে ব্যাংক থেকে টাকা তোলেন। এতে তাদের কাছে বিপুল টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার আছে- এমন ধারণায় ২৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে তাদের বাড়িতে একই এলাকার মোজাম আলী ওরফে মোজাম্মেলের দুই ছেলে মো. সাদ্দাম হোসেন ও মো. হোসেন আলী এবং রাজবাড়ী জেলার সদর থানার খানখানাপুর দত্তপাড়া মো. মোস্তাফা মিজীর ছেলে মো. হুমায়ন মিজী ওরফে হৃদয় চুরি করতে যায়।
বাড়িতে প্রবেশ করার সময় লাবনী খাতুন ও তার সন্তান রিয়াদ হোসেন টের পাওয়ায় তাদের হত্যা করে তাদের লাশ বিভিন্নভাবে রেখে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
পরদিন (২৬ জানুয়ারি) সকালে খবর পেয়ে গোয়ালঘর থেকে লাবনীর এবং বাড়ির পাশে গাছে সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রিয়াদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘এ ঘটনার তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু বক্কর সিদ্দিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হাসিবুল বেনজির, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ইমরান মাহমুদ তুহিন, সদর থানার ওসি রওশন আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।