গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ ১৭:৩৯ পিএম
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ ১৮:০৪ পিএম
গাজীপুরে কলেজশিক্ষক রেজা সাঈদ আল মামুন হত্যা মামলায় নিহতের ভাই ও দুই ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। প্রবা ফটো
গাজীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজশিক্ষক রেজা সাঈদ আল মামুন হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের ভাই ও দুই ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) মধ্যরাতে গাজীপুর মহানগরীর জয়েরটেক এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- উপজেলার সাজনধারা গ্রামের বাসিন্দা নিহত কলেজশিক্ষকের ভাই মজিবর রহমান, মজিবুরের দুই ছেলে মো. সুমন ও মো. সেজান। এর আগে মামলার আরেক আসামি নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ আলীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত রেজা সাঈদ আল মামুন কালিয়াকৈর উপজেলার সাজনধারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন।
গাজীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, নিহত রেজা সাইদ আল মামুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৮ জানুয়ারি বিকালে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন ঢালজোড়া ইউনিয়নের সাজনধারা এলাকায় রেজা সাইদ আল মামুন নিজের ধান ক্ষেতে আইলের কাজ করার সময় আসামিরা কাঠের লাঠি, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে নিহতের বাড়িতে এসে বাড়িঘর ভাংচুর করাসহ হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হাসিনা আক্তার বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করে। এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-১, গাজীপুরের স্পেশালাইজড কোম্পানী পোড়াবাড়ি ক্যাম্প ছায়া তদন্ত শুরু করে।
মেজর মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন বলেন, হত্যা মামলার হুকুমদাতা হিসেবে আসামি মোহাম্মদ আলীকে ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে গতকাল ২৯ জানুয়ারি ভোরে প্রধান আসামি মজিবুরসহ তার দুই ছেলেকে জয়ের টেক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান আসামি মো. মজিবুর জানিয়েছে, আসামি ও নিহত কলেজশিক্ষকের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। বিরোধের জের ধরে গত ২৮ জানুয়ারি বিকালে আসামিরা তাদের জমিতে যায়। পরে রেজা সাইদ আল মামুনও তার জমিতে যায়। সেখানে মোহাম্মদ আলীর হুকুমে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামিরা কাঠের লাঠি, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা পালিয়ে যায়। আসামিদের কালিয়াকৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমজাদ হোসেন বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের পর র্যাব থানায় হস্তান্তর করেছে। এরমধ্যে আগে গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির জন্য আদালতে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে কিন্তু সেটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আজ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।