আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ ১৫:৪৫ পিএম
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ ১৬:২১ পিএম
নির্বাচনের আগে বছরজুড়ে সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে সরব ছিল বিএনপি। তবে ২৮ অক্টোবরের পর থেকে অনেকটাই খেই হারায় সেই আন্দোলন। এর পরের তিন মাস আর বড় কোনো কর্মসূচিতে যায়নি বিএনপি। এর মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের পর আবার মাঠে ফিরছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে গত শনিবার চট্টগ্রামে কালো পতাকা মিছিল করেছে দলটি।
দফায় দফায় সরকার পতনের ঘোষণা দিয়ে সফলতা না পাওয়া, কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা আছে। তবে তিন মাস বিরতির পর চট্টগ্রামে কালো পতাকা মিছিলে বেশ ভালো নেতাকর্মীর সমাগম হয়েছে।
নেতাকর্মীরা বলছে হতাশা থাকলেও আন্দোলনের বিকল্প নেই তাদের। তেমনই একজন সাব্বির হোসেন। শনিবার কাজীর দেউড়ি মোড়ে কথা হয় ছাত্রদলের এই কর্মীর সঙ্গে। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘সবার মধ্যে হতাশা আছে। কিন্তু আবার সবাই নিরুপায়ও। যেভাবে মামলা হামলা করা হছে, তাতে করে দলের নেতাকর্মীদের কাছে আন্দোলন করে জয়ী হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। মিথ্যা মামলার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে তাদের না পেলে বৃদ্ধ বাবা, চাকরিজীবী কিংবা প্রবাসী বড় ভাইদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাজেই সবাই বুঝে গেছে এই নির্যাতন থেকে বাচার একটাই রাস্তা, সরকারের বিদায়। যার কারণে দল কর্মসূচি দিলেই সবাই সাড়া দিচ্ছে।’
মহানগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ইদ্রিস আলীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২৮ অক্টোবর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৭৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুই হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় ৩০টি মামলায় ৯০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শনিবারের আগে সর্বশেষ ৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে বড় কর্মসূচি পালন করেছিল বিএনপি। ওই দিন চট্টগ্রামে রোড মার্চ পরবর্তী সমাবেশ থেকে ঢাকায় ২৮ অক্টোবরের কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৮ অক্টোবরের পর আত্মগোপনে চলে যান দলটির নেতারা। নির্বাচনের পর আবার দৃশ্যপটে আসতে শুরু করেন তারা। এসব নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মীদের মধ্যে হতাশা-সমালোচনা আছে।
নির্বাচন সামনে রেখে সরকার একটা ক্র্যাকডাউন চালিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে গণগ্রেপ্তার চালানোর পরেও আমাদের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছে। পরে ধীরে ধীরে মিছিলগুলো বড় হয়েছে। সরকার যে আচরণ করেছে এর জবাব দিতে গেলে সিভিল ওয়ার করতে হতো। আমরা তো সিভিল ওয়ার চাইনি।’
তবে তিন মাসের নীরবতায় বিএনপি লাভবান হয়েছে বলে মনে করেন এই নেতা। বিএনপিতে হতাশা আছে বলে মনে করেন না জানিয়ে মীর হেলাল বলেন, ‘এত কিছুর পর শনিবারের হাটহাজারী থেকে হাজারো মানুষের মিছিল নিয়ে যোগ দিয়েছি। এমনি করে সব এলাকা থেকে এসেছে। হতাশা থাকলে তো এমনটা হতো না। আমরা হতাশ নই, কর্মীরাও হতাশ নয়।’
নির্বাচনের দিন চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকায় দীর্ঘসময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে পুলিশের সঙ্গে। ওই ঘটনায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নগর বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহসহ ৪৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ ও ২০০ থেকে ৩০০ নেতাকর্মীকে অচেনা আসামি দেখিয়ে মামলা করা হয়। গতকাল হাইকোর্ট থেকে মামলায় আগাম জামিন নিয়েছেন আবু সুফিয়ান। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আমরা দেখাতে চেয়েছি এই সরকার জনবিচ্ছিন্ন সরকার। জনগণ আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে নির্বাচন বর্জন করেছে। সামনের দিনগুলোতেও এই আন্দোলন চলমান থাকবে এবং অচিরেই আমরা বিজয়ী হব। দেশে গণতন্ত্র ফিরবে।’