খুলনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ ০১:০৩ এএম
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:০২ এএম
খুলনায় এক নারীকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। প্রবা ফটো
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারী নারীকে হাসপাতাল থেকে অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে যশোরের কেশবপুর উপজেলা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। রাত সোয়া ১১টার দিকে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় আনা হয়।
সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই নারীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’
এর আগে রবিবার বিকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সামনে থেকে ২০-২৫ জনের একটি দল তাকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। এ কাজে সহযোগিতার অভিযোগে উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুজ্জামানকে আটকে রাখে স্থানীয় লোকজন। পরে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
ওই নারীর ভাই অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান এজাজ শনিবার রাতে মোবাইল ফোনে তার বোনকে ডেকে ব্যক্তিগত অফিসে নিয়ে ধর্ষণ করেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনেক দিন ধরে তাকে ধর্ষণ করছিলেন চেয়ারম্যান এজাজ। শনিবার তার বোন চেয়ারম্যানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি তাকে তাড়িয়ে দেন। এরপর রাত সোয়া ১১টায় তার বোন নিজেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি হন। রবিবার তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কে বা কারা তুলে নিয়েছে সে সম্পর্কে কিছু বলেননি তিনি।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হোসেন সাফায়েত বলেন, ‘ওই নারীকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তিনি বাড়ি চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাকে জোর করে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। ওসিসিতে পুলিশ ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে কাজ করে। এ বিষয়ে তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিস্তারিত জানা যাবে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ধর্ষণের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমাকে হেয় করতে একটি পক্ষ এ ধরনের প্রচার চালাচ্ছে। হাসপাতাল থেকে তাকে তুলে নেওয়ার বিষয়েও আমি কিছু জানি না।’
রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুজ্জামানকে আটকে রাখার বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান। পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা ওই নারী খুলনা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি হন। রবিবার বিকালে তাকে কিছু দুর্বৃত্ত এসে তুলে নিয়ে যায়। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং আটকে রাখা ইউপি চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এ ঘটনা ঘিরে যেন কোনো খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেজন্য পুলিশ আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’