বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:১৪ পিএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ ১৬:১৮ পিএম
গোলপাতা আহরণে ছুটছেন বাওয়ালিরা। প্রবা ফটো
পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের অন্যতম অর্থকরী বৃক্ষ গোলপাতা। প্রতিবছর গোলগাছের পাতা কাটা ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন সাড়ে ৪০০ বাওয়ালি। তবে গোলপাতা সংগ্রহ করতে হয় বন বিভাগের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী। এ বছর ২৮ জানুয়ারি সকাল থেকে গোলপাতা আহরণ শুরু করবেন বাওয়ালিরা। চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। রবিবার সকালে বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে ঢুকবেন বাওয়ালিরা। ইতোমধ্যে গোলপাতা আহরণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং অনেকে সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনাও দিয়েছেন।
১৩ বছর ধরে গোলপাতা আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করা মোংলার দক্ষিণ চরের বাসিন্দা বাওয়ালি শরিফুল ইসলাম বলেন, গোলপাতা কাটতে যাওয়ার জন্য নৌকা, বাঁশ, দড়ি ও ধারালো দা-ছুরি তৈরি করেছি। বন বিভাগের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে কালই বনে ঢুকব।
শরণখোলার মঠেরপাড় এলাকার বাওয়ালি মোতালেব রহমান বলেন, প্রতিবছর গোলপাতা আহরণের আগে নৌকা মেরামত করা লাগে। গোলপাতা আগের মতো এখন আর চলে না। ভালো দামও পাওয়া যায় না। সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালাতেও কষ্ট হয়। তারপরও পেশা টিকিয়ে রাখতে প্রতিবছর গোলপাতা কাটতে যাই। এছাড়া গোলপাতা আহরণের জন্য নৌকাগুলো একটি বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। যার কারণে গোলপাতা আহরণের মৌসুম শেষ হয়ে গেলে, নৌকাটিকে ফেলে রাখতে হয়। আর ফেলে রাখার কারণে প্রতিবছর মেরামতের জন্য অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয় বলে জানান তিনি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৫০০ মণ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন নৌকাগুলো সুন্দরবনে থেকে গোলপাতা আহরণ করতে পারবে। সুন্দরবনের গোলপাতা ঘর ছাউনিতে ব্যবহার হয়। মৌসুমে প্রতি কুইন্টাল গোলপাতা আহরণে ভ্যাট ব্যতীত রাজস্ব নেওয়া হচ্ছে ৬০ টাকা।
দিন দিন চাহিদা কমে যাওয়ায় গোলপাতা সংগ্রহকারীর সংখ্যা কমেছে। আগে যেখানে ১৫০ থেকে ২০০টি নৌকায় গোলপাতা সংগ্রহ হতো, বর্তমানে তা শতকের নিচে নেমে এসেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম বলেন, ২০২৩ সালে ৮৯টি নৌকায় ৪৪১ জন বাওয়ালি ১৬ হাজার কুইন্টাল গোলপাতা সংগ্রহ করেছিলেন। এ বছর কাল (আজ) থেকে গোলপাতা সংগ্রহ শুরু হবে। পাস সংগ্রহের আগে জেলে ও নৌকার সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না।