প্রবা প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৪ ১৮:৪৭ পিএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ ০৮:৩২ এএম
আহত রিয়াজ হাওলাদার ও তার মেয়ে। প্রবা ফটো
প্রায় দুই দশক আগে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল মানুষের মনে। আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় নাটকীয়ভাবে কমে যায় দেশে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা। শুক্রবার রাতে আবার এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, অস্ত্র হিসেবে এসিড কি এখনও আছে দেশে? শুক্রবার রাতে এসিডে বরিশাল সদর উপজেলায় দগ্ধ হয়েছেন এক জেলে ও তার স্ত্রী-কন্যা। তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলায় তিন ভাইসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার শিকার পরিবারের সদস্যরা হলেন- সদর উপজেলার চরনেহালগঞ্জ গ্রামের রিয়াজ হাওলাদার, স্ত্রী খাদিজা বেগম ও ১৮ মাস বয়সি মেয়ে জান্নাতি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- তাদের প্রতিবেশী খালেক হাওলাদারের ছেলে ফিরোজ হাওলাদার, মিরাজ হাওলাদার, নাসির হাওলাদার ও মোখলেছ হাওলাদারের ছেলে রাকিব হাওলাদার।
বরিশাল বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহমান মুকুল জানান, শুক্রবার দিনগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। ঘটনার শিকার পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চারজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে পরিবার মামলা করলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশ ঘটনা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখছে।
মামলার বাদী রিয়াজ হাওলাদার বলেন, ‘চাচাতো ভাই ফিরোজ ও মিরাজদের সঙ্গে আমার জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ ছাড়া কয়েক বছর আগে ফিরোজ ও মিরাজ আমার কাছ থেকে লাখ টাকা ধার নিয়েছিল। ওই টাকা চাইলে হুমকি দেয় তারা। এর জেরে আমার ওপর এসিড নিক্ষেপ করেছে।’ ঘটনার বর্ণনায় রিয়াজ বলেন, ‘শুক্রবার রাত ৯টার দিকে স্ত্রী ও শিশুমেয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। জানালা খুলে ফিরোজ, মিরাজ, নাসির ও নিজাম এসে এসিড নিক্ষেপ করে।’ চিৎকার শুনে স্থানীয়রা গিয়ে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। রিয়াজ বলেন, ‘এসিডে আমার স্ত্রীর শরীরের পেছনে, মেয়ের মুখ ও আমার মুখসহ বেশ কিছু অংশে ফোসকা পড়েছে।’
হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে তাদের। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এইচএম সাইফুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এসিড বার্নের তিন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু বলেননি।
জমিজমা বা বিভিন্ন বিরোধের জেরে হামলা-মারধরের ঘটনা শোনা যায় প্রায়ই। কিন্তু যে এসিড-হামলা দেশ থেকে প্রায় বিদায় নিয়েছিল, অস্ত্র হিসেবে তা কেন আবার ব্যবহার হলোÑ এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসিড কোথা থেকে এলো সেই প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। ওসি মুকুল বলেন, ‘এসিড না অন্য কিছু, সেটা চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেবেন। রিপোর্ট পাওয়ার পর কোথা থেকে আনা হয়েছে সেটা তদন্ত করে বলতে পারব। অস্ত্র হিসেবে কেন এসিড বেছে নেওয়া হলো তা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে।’
এসিডের উৎস খোঁজার চেষ্টা করেছে প্রতিদিনের বাংলাদেশ। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, স্বর্ণকারের দোকান, গাড়ির ব্যাটারির দোকানসহ অনেক কাজে এসিড ব্যবহৃত হয়। ভুক্তভোগী পরিবার সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন সদর উপজেলার টুঙ্গীবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সামসুল আলম লাল। কিন্তু তিনি এসিডের উৎস সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি।