দিনাজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৪ ১৩:৫২ পিএম
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৪ ১৪:১৬ পিএম
দিনাজপুরে তীব্র শীতে দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রবা ফটো
‘মনে হয় বরফ পড়ছে বাহে, জাড়ের হিয়ালে হা-পাও ককড়া লাগি আইসেছে। রাইতোত ঘুম আইসে না। কেথা- কম্বলোত মনে হয়, কেহ পানি ঢালি দিছে। হামার উপায় নাহি বাপো। না খাইতো বাচা যাবেনাহায়। এই তন্ন্যে খুব সকালেই কামের তন্ন্যে বের হইবা হইচে। এখনও কাম পাওনাই। জানো না আইজ ভাইগত কী আছে।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বিরল উপজেলার কানদেবপুর এলাকার বৃদ্ধ দিনমজুর মোস্তাফিজুর রহমান।
দিনাজপুরের শহরের ষষ্টিতলায় শ্রমবাজারে ‘মানুষ বেচার হাট’ খ্যাত শ্রম বাজারে মোস্তাফিজুরের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের।
তিনি জানান, প্রতিদিন বাইসাইকেলে চেপে ১৬ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আসতে হয় তাকে কাজের সন্ধানে। কয়েক দিন দিনাজপুর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে লাগাতার শৈত্যপ্রবাহ হিমেল হাওয়া, আর হাড় কাঁপানো শীতকেও হার মানিয়ে তারা ছুঁটে আসেন, মানুষ বেচার হাট শ্রম বাজারে। কোনো দিন কাজ পায়, কোনো দিন পায় না। কাজের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়।
তীব্র শীতের কারণে বিপাকে পড়েছেন মোস্তাফিজুর রহমানসহ জেলার খেটে খাওয়া শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের মানুষ।
শনিবার (২৭ জানুয়ারি) এ জেয়ার সর্বোনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হিমেল বাতাসের প্রভাব ঠান্ডার অনুভূতি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেই সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। তীব্র শীতের কারণে মানুষজন খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। মানুষজনের চলাচল একেবারেই কম।
দিনাজপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, নিম্নমুখী এই তাপমাত্রা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে।
দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলজ হাসপাতাল ও সদর জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তীব্র শীতে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডাজনিত রোগে শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। শুধু মানুষ নয়, গবাদিপশু, পাখি ও প্রাণিকুলেরও নাকাল অবস্থা। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রকোপে ক্ষেতে ফসলের অবস্থাও ভালো নয়। আলু এবং বোরো ধান চাষাবাদ নিয়ে দুঃচিন্তায় চাষিরা।