চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪ ২১:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪ ২১:৫৫ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন। প্রবা ফটো
চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইলেন চালকল মালিকরা। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন ডাকে জেলার চালকল মালিক গ্রুপ। সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, চাল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা করা হয়নি। চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে কিছু পাইকার ও ব্যবসায়ীর কারণে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা চালকল মিলমালিক গ্রুপের সহসভাপতি ও আনোয়ার অটো রাইসমিলের স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার চালের বাজার নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সব খবর পুরোপুরি সত্য নয়। ধানের দাম ওঠানামা করায় চালের দাম একটু হেরফের হবে এটাই স্বাভাবিক। জেলার চালকল মিলমালিকরা সহনীয় দামে বাজারে চাল সরবরাহ করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিলমালিক মুনজুর অটো রাইসমিল ও সাগর অটো রাইসমিলের পক্ষে সাফাই গেয়ে আনোয়ার আরও বলেন, মুনজুর ও সাগর অটো রাইসমিল নির্ধারিত সময়ের পর বেশি দামে চাল বিক্রি করে, এ অভিযোগও মিথ্যা। ইতোমধ্যে মিলমালিকরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করে চালের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলায় চালের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে মিলমালিক আনোয়ার বলেন, বর্তমানে চালের বাজার সহনীয় আছে। বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে না চাল। আমাদের কাছ থেকে কম দামে চাল কিনে কিছু পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতা বাজারে বেশি দামে চাল বিক্রি করছে।
ধানের দাম বাড়ার কারণে মিনিকেট বা জিরাশাইল চাল ৬১ থেকে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছিল। জনস্বার্থে এই চালের কেজি ২ টাকা কমিয়ে বাজারে ৬২ টাকায় বিক্রি করা হবে বলে জানায় চালকল মিলমালিক গ্রুপ।
সংবাদ সম্মেলনে চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. হারুনুর রশিদ, নবাব অটো রাইসমিলের চেয়ারম্যান আকবর আলীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
তবে স্থানীয় চালের পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই শতাধিক মিলমালিক দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বর্ণা, মিনিকেটসহ আতপ চাল সরবরাহ করে থাকেন। মিলমালিকদের সিন্ডিকেট প্রতিদিন এই জেলা থেকে আড়াই শতাধিকেরও বেশি ট্রাক চাল সরবরাহ করে বিভিন্ন জেলার বাজারগুলোয়। এসব মিলমালিক ধানের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে চালের দাম বাড়িয়েছে। সিন্ডিকেটের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অটো রাইসমিল মালিক সমিতির সভাপতি হারুন-অর-রশিদ জানান, ধানের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চালের দাম বেড়েছে। বর্তমানে স্বাভাবিক আছে চালের বাজার।