× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কিশোরগঞ্জের ভৈরব

স্ত্রীর নামে সরকারি ডাক্তারদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

মিলাদ হোসেন অপু, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১৩:৪৩ পিএম

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১৪:১৪ পিএম

স্ত্রীর নামে সরকারি ডাক্তারদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা স্ত্রীর মালিকানায় বা বিভিন্নজনের নামে প্রতিষ্ঠা করে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী পাঠিয়ে এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এসব হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে; মামলাও হয়েছে একাধিক। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বজনদের অর্থ দিয়ে মীমাংসা করা হয়। তা ছাড়া প্রায় এক ডজন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স নবায়ন না করেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। 

জানা গেছে, ভৈরব শহরে অবস্থিত মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালটি পরিচালনা করছেন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহম্মদ। এই হাসপাতালের মালিক তার স্ত্রী। মেডিল্যাব জেনারেল হাসপাতালটি পরিচালনা করছেন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কে এন এম জাহাঙ্গীর আলম। এই হাসপাতালের মালিক তার স্ত্রী। এ ছাড়া ট্রমা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. দিদার হোসেন, ভৈরব ওয়েমেন্স কেয়ার হাসপাতালের মালিক ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. ফরহাদ হোসেন, মাদার কেয়ার হাসপাতালের মালিক কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসার ডা. হরিপদ সাহা, সেন্ট্রাল হাসপাতালের মালিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. উসমান গণি, আল মদিনা হাসপাতালের মালিক মানিকগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. ফজলুল কাদের, নিউ লাইফ হাসপাতালের মালিক মানিকগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালট্যান্ট ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, হলিটার্চ হাসপাতালের অংশীদার হলেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. জালাল উদ্দিন ও ন্যাশনাল জেনারেল হাসপাতালের মালিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আতিক আহমেদ। 

সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক হলেও এগুলো তাদের স্ত্রীদের নামে। তবে স্থানীয় লোকজন ও রোগীরা জানান, হাসপাতালের মালিক এই সরকারি চিকিৎসকরাই।

ভৈরবের একাধিক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় গত দুই বছরে কয়েকজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রোগীর মৃত্যু হলে হাসপাতাল মালিকরা কোনো কোনো সময়ে ক্ষতিপূরণ দিয়ে স্বজনদের ম্যানেজ করে, আবার কখনও ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করে। এসব রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাঙচুরও হয়েছে। একটি মামলায় গত বছর চিকিৎসকসহ পাঁচজনের জেল-জরিমানাও হয়েছে। একাধিক হাসপাতালে ঢাকার নামিদামি চিকিৎসকের নাম লিখে সাইনবোর্ড টানানো থাকলেও তারা আসেন না বলেও জানা গেছে।

এদিকে অনুমোদনহীন বা লাইসেন্স নবায়ন না করা অনেক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ভৈরব শহরে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ৩৪। তার মধ্য ৩২টির অনুমোদন আছে, ২টির নেই। অনুমোদিত ৩২টির মধ্যে ২০টির লাইসেন্স নবায়ন হলেও ১২টির নবায়ন আবেদনই ঝুলে আছে, তবে তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাদের দাবি, নবায়নের জন্য আবেদন করেছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিলম্ব করছে।

আনোয়ারা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মালিক চিকিৎসক আজিজুল হক স্বপন বলেন, কয়েকদিন আগে তুচ্ছ ঘটনায় তার হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু করেছেন। নবায়নের আবেদন করেছেন অনেক আগে, তবে নবায়নের কাগজ এখনও হাতে পাননি। 

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কে এন এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘মেডিল্যাব জেনারেল হাসপাতালের মালিক আমার স্ত্রী। হাসপাতালের লাইসেন্স আছে, তবে এ বছর এখনও নবায়ন হয়নি। নবায়নের জন্য ডিজি (হেলথ) অফিসে আবেদন জমা আছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিলম্ব করলে কিছু করার নেই।’

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহম্মদ বলেন, ভৈরবে এ পর্যন্ত ২০টি প্রতিষ্ঠানের নবায়ন হয়েছে এবং ১২টির নবায়ন আবেদন আছে। তবে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নেই। এই দুটি বন্ধ করতে অফিসিয়াল নোটিস দিয়েছি।

তার নিজেরও মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি হাসপাতাল রয়েছে, কাগজে-কলমে যেটার মালিক তার স্ত্রী। সরকারি দায়িত্ব পালন করে কীভাবে হাসপাতাল পরিচালনা করেন, এমন প্রশ্ন করা হলে বুলবুল আহম্মদ বলেন, ‘মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের মালিক আমার স্ত্রী। দেশের নাগরিক হিসেবে আমার স্ত্রীর অধিকার আছে ব্যবসা করার। আমার স্ত্রীর হাসপাতালে একাধিক বেসরকারি ডাক্তার নিয়োজিত আছে। তারা হাসপাতাল চালায়। আমার ডিউটির বাইরে সময় পেলে আমি দেখভাল করি। এতে দোষের কী আছে। আমি সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার হওয়ার আগে থেকেই আমার স্ত্রী হাসপাতালটি চালাচ্ছে।’

সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের স্ত্রীর নামে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন সাইফুল ইসলাম বলেন, কোনো চিকিৎসক কাজ ফাঁকি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাইসেন্স নবায়ন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে তিনি বলেন, নানা কারণে নবায়ন বিলম্ব হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স থাকলে নবায়ন বিলম্ব হলেও কার্যক্রম চালু রাখা যায়। এতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা