চুয়াডাঙ্গা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ২০:৩৭ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ২০:৫১ পিএম
কন্যাসন্তান হওয়ায় নবজাতককে ফেলে পালালেন মা। নবজাতককে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মালেকা খাতুনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। প্রবা ফটো
দাম্পত্য জীবনে রয়েছে তিন কন্যাসন্তান। আবার কন্যাসন্তান হলে তালাক দেবেন স্বামী। কিন্তু এবারও জন্ম হয়েছে কন্যাসন্তানের। তাই নবজাতক কন্যাকে হাসপাতালে রেখেই পালিয়ে গেলেন মা ও তার স্বজনরা। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ওই দম্পতির তিন কন্যাসন্তান রয়েছে। আবারও কন্যাসন্তান হলে স্বামী তালাক দেবে বলে জানায় পাপিয়া। তাই আবারও কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ায় তাকে ফেলে পালিয়ে যায় ওই দম্পতি। আপাতত হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মালেকা খাতুনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে নবজাতকটি।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, ‘আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। তাদের বের করতে পারলে আসল ঘটনা জানতে পারব।’
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, ‘নবজাতকটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টা ৪৩ মিনিটে আলমডাঙ্গা উপজেলার কেষ্টপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী পাপিয়া খাতুনকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানেই কন্যাসন্তান প্রসব করেন পাপিয়া। পরে তাকে ভর্তি করা হয় গাইনি ওয়ার্ডে। কিছুক্ষণ পর কন্যাসন্তানকে আলমডাঙ্গা উপজেলার ছত্রপাড়া গ্রামের বিলকিস বানু নামে এক নারীর কাছে রেখে পালিয়ে যান পাপিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ-জোহরা, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশীদ ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী। পরে নবজাতকটি সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মালেকা খাতুনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। ইউএনও ফাতেমা-তুজ-জোহরা ওই নবজাতকের নামকরণ করেন ‘পুষ্প’।