রেজাউল করিম, গাজীপুর
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ১৩:১১ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ১৭:২১ পিএম
দেশের সর্ববৃহৎ সিটি করপোরেশন গাজীপুর সিটি করপোরেশন। ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি ৩২৯ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত হয় এই সিটি করপোরেশন। ৫৭টি ওয়ার্ডের এই সিটির ৮টি জোনে বসবাস করে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ। তবে বিপুল এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য রয়েছে মাত্র একজন চিকিৎসক।
সিটি করপোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫৭টি ওয়ার্ড প্রথম থেকেই চিকিৎসকশূন্য রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নেই সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই। একজনমাত্র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দিয়ে চলছে সিটি করপোরেশন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে শত শত মানুষ আসে স্বাস্থ্যসেবা নিতে। তবে জনবলের অভাবে অনেক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।
সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, স্বাস্থ্য বিভাগে একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, একজন ফুড অ্যান্ড স্যানিটেশন অফিসার, একজন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর অ্যান্ড প্রসিকিউটিং অফিসার ও সাবেক পৌরসভার কয়েকজন কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সহকারী, টিকাদানকারী, অফিস সহায়ক পদে মাস্টাররোলে নিয়োগ করা কিছু কর্মী কাজ করছেন।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা, চিকিৎসা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী, স্বাস্থ্য সহকারী, ভেকসিনেটর সুপারভাইজার ও তার ব্যক্তিগত সহকারী, অফিস সহকারী কাম
কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহকারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা শাখার সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা/চিকিৎসা কর্মকর্তা, ফুড অ্যান্ড স্যানিটেশন অফিসার, স্যানেটারি ইন্সপেক্টর, আটটি জোনের স্বাস্থ্য সহকারী, ইপিআই সুপারভাইজার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কর্মী পদে একজনও নেই। এসব কাজ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন শাখা থেকে ধার-দেনা করে চালিয়ে যাচ্ছে। এসব পদে জনবল চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অর্গানোগ্রাম না থাকার ফলে সেই পুরোনো আমলের পৌরসভার লোক দিয়ে চলছে সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া তাদের অনেকেই চলে যাচ্ছেন, ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। জন্মনিবন্ধনের কাজ অন্য বিভাগের লোক দিয়ে করাতে হচ্ছে। প্রাণী চিকিৎসক না থাকায় কোনোরকম দায়সারাভাবে চলছে কার্যক্রম। গবাদি পশু জবাইয়ের জন্য দুটি জবাইখানা আছে, কিন্তু নেই প্রাণী চিকিৎসক। ফলে এক্ষেত্রে এটিও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশন থেকে বিভিন্ন স্টল করা হয়ে থাকে। এসব স্টলে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে নার্স ও চিকিৎসকের সহযোগিতা নেওয়া হয়। লোকবল না থাকায় এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে থাকেন সিভিল সার্জন অফিসের চিকিৎসক ও নার্স। ইজতেমায় মশক নিধন কন্ট্রোল রুম পরিচালনা ও দেখভালের কাজ স্বাস্থ্য বিভাগের হলেও জনবল না থাকায় বর্জ্য শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাদের সহযোগিতা করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া নিরাপদ খাদ্যের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা নেওয়া হয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে। তবে মাস্টাররোলে অন্যান্য বিভাগে জনবল নিতে পারলেও স্বাস্থ্য শাখায় তাও পাওয়া যায় না। কেননা ১৫ হাজার টাকায় কাজ করবে এমন একজন চিকিৎসক বা নার্স পাওয়া সম্ভব না। ফলে এই ঘাটতি কোনোভাবেই পূরণ হচ্ছে না।
নগরীতে সেবা নিতে আসা একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেবা নিতে এসে অধিকাংশ সময় আমাদের শুনতে হয় জনবল নেই। ফলে যে সেবা অল্প সময়ে পাওয়ার কথা, সেটি পেতে অনেক সময় লাগে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বয়স ১১ বছর, কিন্তু এখনও পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা না-পাওয়াটা দুঃখজনক।
সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের একমাত্র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আমাকে কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দিয়েছে। এখনও অর্গানোগ্রাম হয়নি। বিধিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পদ সৃষ্টি করে আমরা প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি, কয়টা পাস হবে আমরা জানতে পারিনি। আমাদের লোকবল কম, তিনজনের কাজ একজনকে করতে হয়। চিকিৎসক যেহেতু আমি একা, এজন্য একটু কষ্ট হয়। তবে কোনো পেন্ডিং থাকে না। স্যানিটারি ইন্সপেক্টর প্রতি জোনে একজন থাকার কথা, কিন্তু মাত্র দুজন সবগুলো জোন দেখছেন। প্রস্তাবিত আছে আটজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, দুজন হেলথ অফিসার, একজন চিফ হেলথ অফিসার ও প্রতি জোনে একজন প্রাণী চিকিৎসক। এগুলো পেলে আমরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারব, পাশাপাশি নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারব।’
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম সফিউল আজম বলেন, সিটি করপোরেশনে জনবল সমস্যা আছে। মন্ত্রণালয়ে লোকবল চাহিদা দেওয়া হয়েছে, পাস হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।