চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি
ওবাইদুল আকবর রুবেল, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:১৭ এএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:২৭ এএম
এস্কাভেটর দিয়ে ফসলি জমি থেকে কাটা হচ্ছে টপ সয়েল। সম্প্রতি ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের ইন্ডিল্লারচর এলাকা থেকে তোলা।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় আইন অমান্য করে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে বিক্রি করছে একাধিক চক্র। ২০ থেকে ২৫টি গ্রুপে বিভক্ত চক্রের সদস্যদের বড় একটি অংশ ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে এসব অবৈধ মাটিবাণিজ্য চালিয়ে থাকে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের কতিপয় জনপ্রতিনিধি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। স্থানীয় ইটভাটাসহ ও ভিটা ভরাটে এসব মাটির চাহিদা থাকায় তা চড়া দামে বিক্রি করে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। দিনের পর দিন কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার ফলে জমি উর্বরতা যেমন হারাচ্ছে, তেমনিভাবে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশের ভারসাম্য।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সন্ধ্যা নামতেই মাটি কাটার তৎপরতা শুরু হয়। রাত গভীর হলেই এস্কাভেটর দিয়ে শুরু হয় মাটি কাটা। নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে জমিগুলো ক্রমশ চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। স্থানীয়রা জানায়, মাটিখেকোরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না। মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা গেলেও কিছু দিন পর আবার শুরু হয় মাটি কাটা। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিস, ফটিকছড়ি ও ভূজপুর থানা যাতায়াতের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাটি কারবারিরা সোর্স লাগিয়ে তাদের কাজ হচ্ছে প্রশাসননের গতিবিধির ওপর নজরদারির মাধ্যমে অভিযানের আগাম তথ্য জানিয়ে দেওয়া।
উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, লেলাং ইউনিয়নের ইন্ডিল্যার চর, গোপালঘাটা, পাইন্দংয়ের ফটিকছড়ি বিল ও যুগীনিঘাটা, পাট্টিলাকুল, শ্বেতকুয়া, দাঁতমারার শাদীনগর, রত্নপুর কাট্টাইল্যে টিলা ও দৌলতের আমবাগান, ভূজপুরের রাবার ড্যাম ও পুকিয়া বিল, সুয়াবিলের শোভনছড়ি, হারুয়ালছড়ির লম্বাবিল ও মহানগর, কাঞ্চননগরের চমুরহাট, চেঙ্গেরকুল এলাকায় ডজনের ওপর ভেকু মেশিন (এস্কাভেটর) ও শতাধিক ডাম্প ট্রাক, মাহেন্দ্র গাড়ি নিয়ে রাতদিন সমানতালে জমির টপ সয়েল কেটে স্থানীয় ইটভাটাসহ বিভিন্ন নির্মাণাধীন স্থাপনার জায়গা ভরাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এসব এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষক জানায়, পাশের জমিতে গভীরভাবে মাটি কাটায় তাদের জমিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের জমির মাটি বিক্রি করতে হচ্ছে। এ ছাড়া জমির ওপর দিয়ে মাটি বহনকারী গাড়ি নিতে বাধ্য করেন। ফলে ফসলি জমি নষ্ট হলেও কিছুই করার থাকে না।
জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযান চালানো হয়।
ফটিকছড়ি উপজেলার হেঁয়াকো এলাকায় সংরক্ষিত বনের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা তিনটি পাকা দালান গুঁড়িয়ে দিয়েছে বন বিভাগ। গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী চলা এ অভিযানে হেঁয়াকো বন বিটের আওতাধীন পূর্ব সোনাই ও গর্জনতলা এলাকায় সংরক্ষিত বন বিভাগের জায়গায় স্থানীয় নুরুল আলম, জয়নাল ও ইমান আলীর নির্মাণাধীন তিনটি পাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. হারুন অর রশীদ বলেন, ‘উদ্ধারকৃত জায়গায় নতুন করে বনায়ন করা হবে। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।